সৌদি আরব থেকে ফের কাতার যাচ্ছেন টিলারসন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০১৭, শুক্রবার
সৌদি আরবে দেশটির বাদশাহ সালমান ও সৌদি জোটের অন্যান্য আরব দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আবার কাতার যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়ার অভিযোগ এনে মাসখানেক আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আরোপ করেছে সর্বাত্মক অবরোধ। এই সংকট সমাধান করতে কাজ করছেন টিলারসন। প্রথমে সংকটের মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েত সফরে যান তিনি। এরপরই যান কাতারে। সেখান থেকে কুয়েত হয়ে তিনি গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সৌদিতে অবরোধকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি আবার কাতারে ফিরবেন দেশটির আমিরের সঙ্গে আলোচনা করতে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। খবরে বলা হয়, রেক্স টিলারসন এখন পর্যন্ত এই সংকট সমাধানের পথ বের করতে পারেননি। ক্রমেই জটিল হতে থাকা এই সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা বিবাদে জড়িয়েছে। কুয়েত থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় যাওয়ার আগে মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করে যান টিলারসন। তখন কাতারের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন তিনি কিন্তু টিলারসনের সৌদি সফরে চার দেশের অবস্থান শিথিল করার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। জেদ্দায় টিলারসনের বিমান অবতরণের ঘণ্টা কয়েক আগেই বরং তারা জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমঝোতা স্মারক ‘যথেষ্ট নয়’। টিলারসন সৌদি সফরে গিয়ে বাদশাহ সালমান ও তার ক্ষমতাধর ছেলে মোহাম্মেদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া কাতারবিরোধী চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকে বসেন তিনি। এ সময় কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো পক্ষই তেমন ইঙ্গিত দেয়নি। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলোচনায় কাতারকে দেয়া চার আরব দেশের ১৩ দফা দাবি শীতল করতে চাপ দিয়েছেন টিলারসন। উল্লেখ্য, গত মাসে জারি করা সৌদি জোটের এই ১৩ দফা দাবির মধ্যে কাতারের অর্থায়নে চালিত আল জাজিরা টিভি স্টেশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম বন্ধ, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক সীমিত করা এবং দেশটিতে তুরস্কের সেনাঘাঁটি প্রত্যাহার করার দাবি উল্লেখযোগ্য। এসব দাবি কাতার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি বলেছে, কিছু দাবি মানলে কাতারের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে। আর কিছু দাবি মেনে নেয়াই সম্ভবপর নয়। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে, কাতার থেকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের বহিষ্কার করার দাবিটি তুলে ধরেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কাতারে ইরানের রক্ষী বাহিনীর কেউ বসবাস করে না। আমরা তাহলে বহিষ্কার করবো কাকে?’


উল্লেখ্য, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে। এই সংকট নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিক টুইটে দৃশ্যত সৌদি আরবের পক্ষ নিয়েছেন। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে নিরপেক্ষ কিংবা কাতার-ঘেঁষা আচরণ করতে দেখা গেছে। যেমন, আগের কাতার সফরে তিনি বলেছিলেন, এই সংকটে কাতারের অবস্থান খুবই যুক্তিযুক্ত।
উল্লেখ্য, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে। এই সংকট নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিক টুইটে দৃশ্যত সৌদি আরবের পক্ষ নিয়েছেন। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে নিরপেক্ষ কিংবা কাতার-ঘেঁষা আচরণ করতে দেখা গেছে। যেমন, আগের কাতার সফরে তিনি বলেছিলেন, এই সংকটে কাতারের অবস্থান খুবই যুক্তিযুক্ত।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন