মারা গেছেন চীনের ভিন্নমতালম্বী নোবেল বিজয়ী লিউ শিয়াওবো

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার
চীনের সবচেয়ে প্রথিতযশা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকর্মী লিউ শিয়াওবো মারা গেছেন। ৬১ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। গত মাসে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কথিত নাশকতার জন্য ১১ বছরের কারাদ- ভোগ করছিলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক থেকে অধিকার কর্মী বনে যান লিউ।
তাকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল চীনা কর্তৃপক্ষ। নিজের জীবনে একাধিকবার কারাবরণ করেছিলেন তিনি। যে সময়টা কারাগারের বাইরে ছিলেন তখনও ব্যপক কড়াকড়ি আরোপ করা হতো তার চলাচলের ওপর। তার স্ত্রী লিউ শিয়াকে করা হয় গৃহবন্দী।
মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে তার চিকিৎসার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিতর্কে রূপ নেয়। বেশ কয়েকটি পশ্চিমা রাষ্ট্র চীনের প্রতি লিউ শিয়াওবোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। কয়েকদিন আগে হাসপাতালে তাকে দেখতে যান একজন আমেরিকান ও জার্মান চিকিৎসক। তারা উভয়েই বলেন, বিদেশে ভ্রমণ করতে তিনি সক্ষম। কিন্তু চীনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দাবি করছিলেন, ভ্রমণ করার মতো সক্ষম অবস্থায় তিনি ছিলেন না।
স্থানীয় শেনইয়াং আইনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের ওয়েবসাইটে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, লিউ শিয়াওবো একাধিক ‘অর্গান ফেইলিউর’-এর শিকার হন। তাকে বাঁচানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়, চীনের মূল ভ’খ-ের বাইরে গণতন্ত্রপন্থী চীনা অ্যাকটিভিস্টদের কাছে লিউ শিয়াওবো অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তার সম্পর্কিত খবরাখবর কর্তৃপক্ষ সেন্সর করায় তার দুরাবস্থা সম্পর্কে অনেকেই অবগত ছিলেন না। ১৯৮৯ সালের জুনে বিখ্যাত তিয়ানআনমেন বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। কিন্তু সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্তাক্তভাবে শেষ হয় ওই বিক্ষোভ। তিনি ও কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে কয়েকশ’ প্রতিবাদকারীকে দেশের বাইরে পাঠাতে সক্ষম হন। পরে তাকে একটি বন্দীকেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়। ১৯৯১ সালে তিনি মুক্তি পান। কিন্তু ওই বিক্ষোভে জড়িত থাকার দায়ে আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে তিনি আন্দোলন করলে তাকে তিন বছরের জন্য একটি লেবার শিবিরে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেই ১৯৯৬ সালে তিনি কবি লিউ শিয়াকে বিয়ে করার অনুমতি পান। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অব্যাহত রাখেন গণতন্ত্রের দাবিতে সংগ্রাম।
২০০৯ সালে তাকে ১১ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। তার অপরাধ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মিলে তিনি চার্টার ০৮ নামে একটি ইশতিহার প্রনয়ণ করেন। এই ইশতিহারে চীনে একদলীয় শাসনের অবসান ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রনয়ণের দাবি জানান। তাকে রাষ্ট্র উৎখাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
‘চীনে মৌলিক মানবাধিকারের জন্য তার দীর্ঘ কিন্তু অসহিংস সংগ্রামে’র জন্য ২০১০ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারে ভ’ষিত করা হয়। কিন্তু সুইডেনে গিয়ে তাকে ওই পুরষ্কার গ্রহণের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার নির্দেশ

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

‘অনুমোদনহীন বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

কি পেলাম কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...