ঋণ না পেয়ে কাতারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে উস্কে দিয়েছিলেন কুশনার

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার
কাতারের এক ধনী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ের জামাই জারেড কুশনারের বিরুদ্ধে। বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, রিয়াল এস্টেট ব্যবসার শুরুর দিকে কুশনার নিউ ইয়র্কের ৬৬৬ ফিফথ এভিনিউতে ১৮০ কোটি ডলার দিয়ে একটি ভবন ক্রয় করেন। তৎকালীন সময়ে এটি একটি রেকর্ড সৃষ্টি করা ক্রয় ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ওই ভবনের অফিস-অংশের চার ভাগের এক ভাগই খালি পড়ে আছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে ঋণ শোধ করার মত পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না ভবনটি। আর এজন্যে কুশনার কোম্পানীকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার।
২০১৫ সালে ডনাল্ড ট্রাম্প যখন তার নির্বাচনী প্রচারনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, কুশনার ও তার পিতা তখন ভবনটিকে হাতছাড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে লড়ছিলেন। তারা কাতারের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী হামাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-থানির (এইচবিজে) কাছে ঋণ চাইতে গিয়েছিলেন।
দ্য ইন্টারসেপ্টের এক খবরে বলা হয়, এইচবিজে ভবনটিতে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে সম্মত হন। তবে তার শর্ত ছিলো যে, এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টটির বাকি অর্থ জোগাড়ের কাজ একাই করতে হবে কুশনার কোম্পানীকে। সাহায্যের জন্যে কুশনার কোম্পানী পরবর্তীতে চীনা ইন্সুরেন্স কোম্পানি আনবাং-এর দ্বারস্থ হয়। আনবাং তাদেরকে  ঋণ (কনস্ট্রাকশন লোন) হিসেবে ৪০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়।
কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরেই হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শদাতা হিসেবে কুশনারের স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট) সামনে চলে এলে, চুক্তি থেকে সটকে পড়ে আনবাং। কিন্তু, আনবাং-এর সাহায্য ছাড়া এইচবিজে’র ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণ করা সম্ভব ছিলো না কুশনারের।
এক সূত্রের ভাষ্য মতে, এরপর এইচবিজে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি বাতিল করে দেন। অন্য এক সূত্র অনুসারে, চুক্তিটি স্থগিত করে রাখেন তিনি।
এদিকে, কয়েকদিন পরেই কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ এনে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির প্রতিবেশী ছয়টি আরব দেশ। কুটনৈতিক সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কাতারকে বেশ কিছু দাবি পূরণ করতে বলে আরব দেশগুলো। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরব দেশগুলোকে একটি যৌক্তিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। কিন্তু ট্রাম্প বরং দৃশ্যত নিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রকাশ্যেই কাতারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
খবরে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই আচরণের নেপথ্যে রয়েছে কুশনারের পরামর্শ। এ নিয়ে অবাক হয়েছেন খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসনও। একটি সূত্র আমেরিকান কনজারভেটিভ পত্রিকাকে জানিয়েছে, টিলারসনের বিশ্বাস কুশনারই এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি ট্রাম্প কাতারের বিরুদ্ধে যেই বিবৃতি দিয়েছেন তা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা (যিনি কুশনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু) লিখেছেন বলে বিশ্বাস টিলারসনের। উল্লেখ্য, কাতারের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্ন ও অবরোধের নেপথ্যে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রয়েছে আরব আমিরাতের।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন