গরু জবাই- এর ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার
ভারতে জবাইয়ের জন্য গরু বিক্রয় নিষিদ্ধ করে প্রস্তাবিত একটি আইন বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সরকার বলেছিল, ‘অনিয়ন্ত্রিত ও অনিয়মবদ্ধ পশু ব্যবসা বন্ধে’ এই আইন প্রনয়ণ করতে চায় তারা। কিন্তু এই আইনের ফলে জবাইর উদ্দেশ্যে গরুর পাশাপাশি মহিষ ও উট বিক্রি নিষিদ্ধ হতো। দেশের মাংস ও চামড়া শিল্পে বড় ধরণের প্রভাব পড়তো। তাই বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাবিত আইনটির সমালোচনা এসেছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেছেন, এ আইন পাশ হলে অনেকের জীবিকা হুমকিতে পড়বে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, ৩০শে মে আইনটি স্থগিত করেছিল তামিলনাড়– রাজ্যের একটি নি¤œ আদালত। এছাড়া ৮ই জুলাই মাদ্রাজ হাই কোর্টও একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায় দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বহাল থাকবে এবং দেশজুড়ে প্রযোজ্য হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার এই আইনে পরিবর্তন ও সংশোধনী এনে আগস্টের শেষ নাগাদ পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করবে।
খবরে বলা হয়, ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের কাছে গরু একটি পবিত্র পশু। দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ। কিন্তু নতুন এই আইনটি হতো প্রথম কোনো আইন যেখানে মহিষকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতো। ভারতের মাংসের চাহিদা মহিষ থেকেই পূরণ হয়। দেশটির বার্ষিক মাংস রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। বিশ্বে মাংস রপ্তানিতে এ কারণে শীর্ষে ভারত।
প্রধান বিচারপতি জগদীশ সিং খেহার বলেন, মানুষের জীবিকা এই আইনের দরুন আক্রান্ত হওয়া উচিত নয়। মুসলিম অল ইন্ডিয়া জমিয়াতুল কুরেশ অ্যাকশন কমিটির প্রধান আবদুল ফাহিম কুরেশি সুপ্রিম কোর্টে মাংস বিক্রেতাদের পক্ষে এই আইনের বিপক্ষে পিটিশন দাখিল করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের জন্য একটি বিজয়।
ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা শুরু হয়। গুজরাটে মার্চে একটি আইন পাশ হয় যেখানে গরু জবাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন রাখা হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও, স্বঘোষিত গরু-রক্ষক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এই গোষ্ঠী অনেক রাজ্যে সক্রিয়। বেশ কিছু ঘটনায় গরু হত্যা করার সন্দেহে বা অভিযোগে মুসলিম ও নিুবর্ণের হিন্দুদের হত্যা করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ওই প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে হিন্দু-তোষণের অভিযোগ এনেছেন সমালোচকরা।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Safiq

২০১৭-০৭-১২ ২০:৩৬:৪৮

well done.

আপনার মতামত দিন