সাংবাদিক অমিত বসু নীরবে চলে গেলেন

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৩ জুলাই ২০১৭, সোমবার
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অমিত বসু নীরবেই চলে গেলেন। বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। কলকাতার বনেদী পরিবারের সন্তান অমিত বসু সোমবার ভোর সাড়ে তিনটায় মানিকতলার সুকিয়া স্ট্রীট সংলগ্ন ১১/৭ বি রামকৃষ্ণ দাস লেনের পৈত্রিক বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত দু মাস আগে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। একটি কেমোও নিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহেই আরেকটি কেমো দেবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এদিনই নিমতলা ষ্মশানে তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। অমিত বসুর জন্ম হয়েছিল ১৯৫৭ সালে ৯ আগষ্ট। পৈত্রিক বাড়ির যে ঘরে তিনি ভ’মিষ্ট হয়েছিলেন সেই ঘরেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে একমাত্র পুত্র, বৃদ্ধা মা ছাড়াও অসংখ্য স্বজন-বন্ধু এবং সাংবাদিক সহকর্মী রেখে গিয়েছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি ¯েœহাশীষ শূর ও সম্পদক কিংশুক প্রামাণিক সহ কলকাতার বাংলদেশের গণমাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি লেখালিখিতে ব্যস্ত ছিলেন। আগের রাতেই বাংলাদেশের উপর একটি বিশ্লেষনধর্মী লেখা লিখেছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের জন্য। আশির দশকে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত সত্যযুগ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে অমিতের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। এরপর তিনি চলে গিয়েছিলেন ম্যানিলায় রেডিও ভেরিটাসে। সেখান থেকে ফিরে দুই বাংলার বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনকন্ঠের কলকাতা সংবাদদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। একই সঙ্গে কলকাতার ’তারা নিউজ’ এর বাংলাদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দণন বাংলার বুদ্ধিজীবীদের একই সুত্রে বেঁধেছিলেন।  ঢাকার দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় তিনি নিয়মিত  কলাম লিখতেন। কলকাতার অনলাইন পত্রিকা এই মুহুর্তে ডট কম-এর প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন বেশ কিছুদিন। গত কয়েক বছরে ধরে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে নিয়মিত বাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখতেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যিক হিসেবেও বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন। গত কয়েক বছরে নিয়মিত উপন্যাস লিখেছেন অমিত বসু। মরমিয়া, বিহান, উজান তার লেখা উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম। ঢাকার দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ২০১৬ সালে ঈদ সংখ্যায় ’দোসর’ উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ সাড়া জাগিয়েছিল লেখাটি। এটাই তাঁর লেখা শেষ উপন্যাস। কলকাতায় দোসর উপন্যাসের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচনের প্রস্তুতিও চলছিল।এবারও মানবজমিন ঈদ সংখ্যায় একটি লেখা লিখেছিলেন। সেটি প্রকাশিত হলেও ঈদ সংখ্যাটি তাঁর কাছে পৌঁছে দেবার আগেই তিনি চলে গেছেন।  অমিত বসু মানুষ হিসেবে উচ্ছ্বল মানুস ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিতে বসলে সময় কেটে যেত। সামাজিক নানা ঘটনা নিয়ে তাঁর বিশ্লেষনের গভীরতায় সহকর্মীরা বারে বারে মুগ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন স্বাধীন মনের মানুষ। অন্যায়কে সহ্য করতে পারেন নি। কিন্তু ব্যাক্তিগত জীবনে সেই অন্যায়ই তাঁকে বিপর্যস্ত করেছিল।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মধুপুরে রোহিঙ্গা সন্দেহে যুবক আটক

ম্যানচেস্টারে এবার মসজিদের বাইরে একজন ডাক্তারকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কলেরা সংক্রমণের আশঙ্কা বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার

স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক ১

২৮ ‘হিন্দু’র খুনী কে!

ভেঙ্গে গেল স্পর্শিয়ার সংসার

নির্বাচিত মারকেল, ইসলামবিরোধী এএফডির উত্থান, কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে

মালিতে নিহত সার্জেন্ট আলতাফের বাড়িতে শোকের মাতম

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক, নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আরও তিন দেশ

‘যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি’

​ জার্মানির নির্বাচনে শেষ হাসি মার্কেলেরই

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত