সৌদি-কাতারের ঝগড়ায় লাভবান তুরস্ক

এক্সক্লুসিভ

বিশেষ প্রতিনিধি, তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে | ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার
সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে ঝগড়ায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে তুরস্ক। এ কারণে খুশি দেশটির লোকজন। তারা বলছেন, সৌদি আরব থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। এ কারণে তুরস্ক থেকে বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য নিচ্ছে কাতার। ফলে দুগ্ধ, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। বিশ্বের প্রথম উন্নত দেশ থেকে মোটা অঙ্কের আয়ও করে নিচ্ছে তারা। শনি ও রোববার ইস্তাম্বুলের পথে পথে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমন মনোভাব জানা গেছে। তুরস্কের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং পর্যটক-ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দু ইস্তাম্বুল। অবস্থানগতভাবে এই শহরের গুরুত্ব অনেক। বসফরাস চ্যানেল ইস্তাম্বুলকে সংযুক্ত করেছে মারমারা সি ও ব্ল্যাক সি’র সঙ্গে। পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ইস্তাম্বুল। শহরটির প্রাণকেন্দ্র সিসলি। সিটি সেন্টারের কাছেই এর অবস্থা। শনিবার রোদ ঝলমনে বিকেলে সেখানে কথা হয় মালিহা শবনমের সঙ্গে। তিনি জানান, কাতার-সৌদি ইস্যুতে আমাদের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্টের তুলনা হয় না। আপনি যেকোনো কিছুতে দেখবেন তুরস্কের ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একথায় অতুলনীয়। বিকেলে মাঝারি টাইপের শিপে করে বসফরাস রাউন্ড ট্রিপে গিয়ে মালিহার কথার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হাজার টাকা ফি দিয়ে দেড়শ’ জনের শিপে গিয়ে দেখা যায় ২৫- ৩০ জন বিদেশি পর্যটক। বাকীরা সবাই তুরস্কের নাগরিক। বসফরাসের বুকে শিপ থেকে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতেই পর্যটক ও তুরস্কের নাগরিকরা বেশি ব্যস্ত ছিলেন। দেখা যাচ্ছিল আলবাট্টস ও সি বার্ডস। এছাড়া বসফরাসের ঘন সবুজ-নীল জলরাশিতে মাঝেমধ্যে ডলফিন উঁকি মারতে দেখা যায়। বসফরাসের তীরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলো অন্য রকমের সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে। এমন পরিবেশেও কয়েক জন তুরস্কের নাগরিকের সঙ্গে সৌদি-কাতার ইস্যু নিয়ে কথা নয়। আঙ্কারায় বসবাসকারী আবু আইয়ুব আনসারী মানবজমিনকে বলেন, তুরস্কের পণ্যের গুণগতমান অনেক ভালো। তবে ব্যবসায়িক দিক দিয়ে নয় বিশ্বের সেরা ধনীর পাশে থাকা মর্যাদার। আমি মনে করি আমাদের প্রেসিডেন্ট সঠিক কাজটি করেছেন। তার সঙ্গে সুর মেলান তারই সহধর্মিণী সুলতানা আনসারী। তিনি বলেন, প্যাঁচ বুঝি না, তবে এটা বুঝি কাতারের পাশে থাকা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বসফরাস শিপ থেকে নেমে ইস্তাম্বুলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট টপকাপি প্যালেসে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি তুরস্কের লোকজনেরও দেখা মেলে। সুলতান সুলেমান ও খলিফাদের বাসস্থানের এই প্যালেসে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায়। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকে সুলতানি আমলে বিভিন্ন পোশাক, বর্মসহ মূল্যবান হিরা- চুনি-পান্নার দেখা মেলে। টপকাপি প্যালেস থেকে মারমারা সি ও বসফরাসের মনকাড়া দৃশ্য চোখে পড়ে। প্যালেসের পাশে নীল রঙের মার্বেলখচিত মসজিদের দেখা মেলে। টপকাপিতে বিশ্রাম বেঞ্চে বসে কথা হয় তুরস্কের প্রত্যন্ত এলাকা কোলসের বাসিন্দা আবু দারদা আর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, কাতারের স্বার্থে তুরস্ক যেটা করেছে সেটা আরব বিশ্বের জন্য সুফল বয়ে আনবে। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন