বিএসএমএমইউতে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ডিভাইস বিনামূল্যে প্রদান

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জুন ২০১৭, সোমবার
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দ পত্র প্রদান করা  হয়েছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম বিএসএমএমইউ-এর উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়। গতকাল শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য লাখ লাখ টাকার এই ডিভাইস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হয়। মোট ৭২ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে এই পত্র দেয়া হয়েছে। প্রতিটি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস-এর বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে ৭ কোটি ২০ লাখর টাকার কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হলো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম, বিএসএমএমইউ-এর কর্মসূচি পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদার। অধ্যাপক ডা. মো. আবুল হাসনাত জোয়ারদার জানান, বধিরতা বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে বধিরতার হার শতকরা নয় দশমিক ছয় ভাগ। দেশে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ মারাত্মক ধরনের বধিরতার ভুগছেন-যারা সকলেই কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের সম্ভাব্য প্রার্থী। বিশ্বজুড়ে প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে দুইজন শিশু বধিরতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সে হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৬০০ শিশু বধিরতা নিয়ে জন্মায় এবং প্রায় সমসংখ্যক জনগোষ্ঠী শ্রবণ শক্তি নিয়ে জন্মালেও তাদের জীবদ্দশায় কোন না কোন সময়ে বধিরে পরিণত হয়। শৈশবে এবং বাল্যকালে শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা শিশুর মৌখিক ভাষার বিকাশ এবং মানসিক বিকাশকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে। শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু বা ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে থাকে। তাই একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর দ্রুত শ্রবণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মারাত্মক বধিরতা অথবা সম্পূর্ণ বধিরতা যেখানে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করেও কানে শোনা সম্ভব হয় না সেক্ষেত্রে এখন অন্তঃকর্নেও কক্লিয়ায় স্থাপনযোগ্য জৈব ইলেকট্রনিক যন্ত্র কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট অত্যন্ত উপযোগী ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণে স্থাপন করতে হয়। উল্লেখ্য, বিএসএমএমইউতে এ পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫২ জনের কক্লিয়ারইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে ১৪০ জনই শিশু।
দুস্থ রোগীদের মাঝে বস্ত্র ও শিশুদের পুষ্টিবক্স বিতরণ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে  বিএসএমএমইউ’র রোগী কল্যাণ সমিতি ও সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগে অসহায় ও দুঃস্থ রোগীদের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি ও শিশু রোগীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবারের বক্স বিতরণ করা হয়।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন