নৌকা ডুবে গেছে: খালেদা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জুন ২০১৭, রবিবার
নৌকা ডুবে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন, কিছু উদ্বোধন করছেন। আর সেখানে ওরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নামে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নৌকা যে ডুবে গেছে- এটা বুঝতে পারছেন না। এই নৌকা ডুবে গেছে, এই নৌকাকে হাজার লোক দিয়েও আর টেনে তুলতে পারবে না। খালেদা জিয়া বলেন, নৌকার সঙ্গে যাদের রেখেছেন, আশেপাশে যারা আছে, আপনার ডানে-বাঁয়ে যারা আছে, যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছে-তারা কী জিনিস। আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন তারা কী খায়, কী রকম তাদের লাইফ স্টাইল। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না। এরা দেশের কিছু করতে পারে না। আপনিও পারবেন না। গুলশানের ইমানুয়েল সেন্টারে ২০দলীয় জোটের শরিক জাগপা প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমি বলবো একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনো দল অংশগ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে। সকলে এটা চায়, সারা বিশ্বের মানুষ এটা চায়। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে এই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি ও ২০দলীয় জোট জিতে এসে আমরা ভিশন ২০৩০ মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি সবকিছু করবো, আরো কিছু করার আছে, সেটাও করব। তিনি বলেন, সামনে ঈদ। এই ঈদে মানুষ দেশে যায়। কিন্তু আপনারা দেখেছেন রাস্তাঘাটের কী দুরবস্থা। গতকাল পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা দিয়ে ১০ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। গাড়িতে যাত্রীরা দুরবস্থার মধ্যে সময় পারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, যেভাবে ভূমিধসে মানুষগুলো মারা গেল, তাদের উদ্ধার করা, তাদের পুর্নবাসনে সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা দেখছি না, কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না। জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত। চট্টগ্রামে, রাঙ্গামাটিতে এত বড় ঘটনা ঘটলো আর তা জেনেও তিনি দেশ ত্যাগ করলেন। কেনো? এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান। এটা কী জনগণের প্রতি তার  দায়িত্ববোধ? এ সময় সম্প্রতি চালের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে কত কর বাড়িয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে। যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করেছেন, সেটার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের এক লাখ টাকা জমা রাখলে সেখানে ৮শ’ টাকা কেটে নিয়ে যাবে। কোন মানুষের অর্থ থেকে একটা কাটছে? ব্যাংকিংখাতে লুটপাটের পর এখন মানুষের পকেট কেটে টাকা তা ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। আমি জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের চেহারা আপনারা ভালোভাবে দেখে নিয়েছেন। তাদের হাত থেকে যদি বাঁচতে চান, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হোন। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে, গরিব-সাধারণ মানুষের পক্ষে, সমস্যা সমাধানের পক্ষে, দেশের শান্তি-উন্নয়নের পক্ষে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে, তাদের পক্ষে থাকুন। সেই রকম দলই হলো বিএনপি ও ২০ দল। এ সময় প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন বক্তব্য দেন। আলোচনা সভায় মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পর মূলমঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাগপার সদ্যপ্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিণী অধ্যাপক রেহানা প্রধান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমানকে নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন