প্রাণ ফিরছে মৌচাক মালিবাগের শপিং মলে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০১৭, শনিবার
ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য দীর্ঘ দিন অচল থাকার পর নগরীর মৌচাক-মালিবাগে আবার প্রাণ ফিরছে। গত কয়েক বছর মৌচাক-মালিবাগ এলাকা আশপাশের মানুষের জন্য আতঙ্কের নাম ছিল। খোঁড়াখুঁড়ি, জলাবদ্ধতা, কাঁদা, নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে এই এলাকা দিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করা দায় ছিল। ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কাহিনী ছিল অহরহ। এমনকি এই ফ্লাইওভার মৃত্যুদূত হয়ে জীবন নিয়েছিল এক শ্রমিকের। কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই এলাকার রাস্তা কিছুটা হলেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেয়া হয়েছে। তাই বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের আনাগোনা গত কয়েকদিন ধরেই লক্ষণীয় ছিল। সরজমিন মৌচাক-মালিবাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায় মৌচাক মার্কেট, ফরচুন মার্কেট, আনারকলি, সেন্টার পয়েন্ট, হোসাফ শপিং কমপ্লেক্স, শান্তি নগরের টুইন টাওয়ার, কর্ণফুলি মার্কেটসহ আশপাশের ছোট-বড় সবক’টি মার্কেটেই  ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এই এলাকার মার্কেটগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। লাল নীল বাতি দিয়ে সবক’টি মার্কেট রঙিন করে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাউন্ড সিস্টেমে হিন্দি বাংলা গান বাজিয়ে মাতিয়ে রাখা হয়। এই এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তাদের ব্যবসায় মন্দা চলে আসে। ক্রেতাশূন্য সময় পার করেছেন গত দুই বছর। ফরচুন মার্কেটের কসমেটিক ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, মৌচাক মালিবাগের ব্যবসায়ীদের পুনর্জন্ম হয়েছে। কারণ বছর খানেক ধরে দোকান খোলা আর বন্ধ করাই তাদের কাজ ছিল। কোন বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা আসতো না। রাস্তা ঘাট দিয়ে তেমন যানবাহন চলাচল করতো না। মানুষের জন্য আতঙ্কের এলাকা ছিল মৌচাক-মালিবাগ। এখন অনেকটা উন্নতি হয়েছে। নিচের কাজ শেষ হওয়ার কারণে এখন আর তেমন ঝামেলা নেই। যানবাহন চলাচল করতে পারছে। ক্রেতাদের আসা যাওয়া আছে। এই কয়েক দিন ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। তারা আশা করছেন ঈদ কাছে এলে আরো বেশি বিক্রি হবে।
মৌচাক মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার আনাগোনায় মুখরিত এই মার্কেটটি। ঈদকে সামনে রেখে এখানকার ব্যবসায়ীরা আয়োজনের কমতি রাখেননি। মৌচাক মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ী রুমেল জানান, গত কয়েক মাস পুঁজি ভেঙ্গে ভেঙ্গে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, নিজের পরিবারের খরচ চালিয়েছি। ঈদকে সামনে রেখে আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে আবার ব্যবসা সাজিয়েছি। আশাকরি এই ঈদে বিক্রি ভালো হবে। কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবো। দোকানে প্রচুর কাপড় এনেছি। ক্রেতার চাহিদা মতো আইটেম আছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বিক্রি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এবারের ঈদে মেয়েদের প্রধান আকর্ষণ সালোয়ার-কামিজ। মৌচাক মার্কেটের প্রতিটি তলায় কমবেশি সালোয়ার-কামিজের দোকান আছে। তবে তৃতীয় তলায় বেশি। নতুন নকশায়, নতুন কাপড়ের সালোয়ার-কামিজে ছেয়ে গেছে দোকানগুলো। এ ছাড়া এখানে পাওয়া যায় শিশুদের দারুণসব পোশাক। গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, স্কার্ট, টপস,  মেয়েদের প্যান্ট, শার্ট ইত্যাদি। মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আছে শাড়ির দোকান। এখানে অনেক  টেক্সটাইল মিলের শাড়ি সরাসরি বিক্রি হয়। প্রাইম টেক্সটাইল, রাজশাহী সিল্ক হাউস, প্রাইডেক্স  টেক্সটাইল, বেঙ্গল  টেক্সটাইল, তাঁত  বৈচিত্র্য খাজানা, খান শাড়িজ, রেইনবো শাড়িজ, বাসন্তি শাড়িঘর ও স্বর্ণলতা শাড়ি। একই অবস্থা আনারকলি মার্কেট ও সেন্টার পয়েন্টে। এই দুই মার্কেট পাশাপাশি হওয়ার কারণে সমান তালে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন এতদিন এই এলাকাটা প্রাণহীন ছিল। এখন অনেকটা সস্তি ফিরেছে। রাস্তা ঘাট ভালো করে দেয়া হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে তারা আয়োজনের কমতি রাখেননি। আশপাশের এলাকার ক্রেতারাও এখন আসছেন। রুহুল আমিন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, অনেক  ক্রেতা হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রিও মোটামুটি ভালো হচ্ছে। তারপরও ক্রেতার আনাগোনা থাকায় ভালো লাগছে। মালিবাগ সুপার মার্কেটও ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা তাদের মনের মতো করে পণ্য দিয়ে সাজিয়েছেন দোকান। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্যটি খুব সহজেই বাছাই করতে পারছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাণহীন মার্কেটে এখন ক্রেতারা আসা-যাওয়া করছেন। ঈদ যত কাছে আসবে আরো জমে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।
নাটকপাড়া হিসেবে খ্যাত বেইলি রোডে গিয়ে দেখা যায়, নান্দনিক আর  মোহনীয় নকশার বাহারি শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, জিন্স, ফতুয়া থরে থরে সাজানো। দেশি সুতা, তাঁতীদের নিরলস পরিশ্রম ও নজরকাড়া নকশায় তৈরি শাড়ির পসরা শোভা পাচ্ছে  দোকানগুলোতে। এখানকার শাড়ির দোকান ছাড়াও দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতেও ঈদ বাজার জমে উঠেছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন