কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ সৌদি সহ ৪ আরব রাষ্ট্রের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৫ জুন ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৬
 উপসাগরীয় আরব দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে আরও চার আরব দেশ। সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ চারটি দেশ কাতারের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। দেশগুলোর দাবি, মুসলিম ব্রাদারহুড সহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে কাতার। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। 
সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা এসপিএ বলেছে, কাতারের সঙ্গে নিজেদের সমস্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ পথের যোগাযোগও বন্ধ। কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিপদ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিশরও নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর কাতারগামী পরিবহনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে। অপরদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দেশটিতে নিযুক্ত সকল কাতারি কূটনীতিককে দেশত্যাগের জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়েছে। আবু ধাবির অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সমর্থন, অর্থায়ন ও আলিঙ্গন করছে দোহা। বাহরাইনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বলেছে, বাহরাইনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকিতে ফেলা ও অভ্যন্তরীন বিষয়ে কাতারের নাক গলানোর প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে সরকার।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে। সেখানে রয়েছে কাতারি সেনা। এই জোট থেকেও কাতারি সেনাদের বহিষ্কৃত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে কাতারের চর্চা সন্ত্রাসবাদকে শক্তিশালী করে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন ধরেই কাতার ও তার প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মূলত, কাতারের আমিরের একটি ভুয়া বিবৃতি দিয়ে নতুন এই উত্তেজনার শুরু। ওই ভুয়া বক্তব্যের বিবরণীতে কাতারের আমির ইরানের প্রশংসা করেন। বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলোর শত্রুতা পোষণ করা উচিৎ নয়। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড সহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের প্রতিও সমর্থন ঘোষণা করেন।
ইরানকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশ। তাই উপসাগরীয় আরব দেশ হয়েও এ ধরণের বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে চার আরব দেশেই আল জাজিরা সহ কাতারের অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কাতারি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা হ্যাক হয়েছে। আর বার্তাসংস্থায় প্রকাশিত বক্তব্য ভুয়া। 
তবে দৃশ্যত, আরব সংবাদ মাধ্যমের কাছে এ দাবি ধোপে টেকে নি। এর কয়েকদিন পর কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনালাপ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। 
অপরদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের হ্যাক হওয়া ইমেইলে দেখা যায়, ইসরাইলপন্থী একটি সংগঠনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ উঠাবসা। ওই থিংকট্যাংকের সঙ্গে আল জাজিরা সহ কাতার সংশ্লিষ্ট অনেক ইস্যুতে আলোচনা করেছেন রাষ্ট্রদূত। 
এ সংবাদ প্রকাশের একদিনের মাথায় সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিল চারটি আরব দেশ।
এর আগেও মিশরের ব্রাদারহুড সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করলে মুরসির সমর্থনে এগিয়ে যায় কাতার। ব্রাদারহুডকে মিশর সহ আরবের বহু দেশে অবৈধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কাতার ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকে আশ্রয় দেয়। এমনকি ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকেও সমর্থন দেয় কাতার। হামাসের প্রভাবশালী নেতা খালেদ মেশাল এখন কাতারেই থাকেন। ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে সৌদি আরব সহ চার আরব দেশ একবার কাতার থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নেয়। পরে কুয়েতের মধ্যস্থতায় সব ঠিক হয়। বিনিময়ে কাতার ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকে বহিষ্কার করে। 
এবারের বিরোধ শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরান নিয়ে, যাকে নিজেদের প্রধান শত্রু মনে করে আরব দেশগুলো। কিন্তু কাতারের প্রায় ১০ শতাংশ নাগরিক শিয়া, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বেশিরভাগ আরব দেশে শিয়ারা কোনঠাসা থাকলেও, কাতারে তারা অনেক স্বাধীনতা ভোগ করে। কাতারের অনেক ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী পরিবার শিয়া। সাম্প্রতিককালে ইরান নিয়ে রূঢ় মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল কাতার। এমনকি যেখানে ইরানের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক নেই বেশিরভাগ আরব দেশের, সেখানে কুয়েতের আমিরের সঙ্গে আলাপ হয় ইরানের প্রেসিডেন্টের। এবারও কুয়েত চেষ্টা করেছিল কাতারের সঙ্গে অন্যান্য আরব দেশের মধ্যস্থতা করার। কিন্তু তা দৃশ্যত সফল হলো না। 
এর আগে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহরাইনে যখন সুন্নি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন দানা বাঁধে, তখন প্রতিবেশী সুন্নি দেশ সৌদি আরব সৈন্য পাঠিয়ে সে আন্দোলন দমাতে সহায়তা করে। বাহরাইন এসব বিক্ষোভের জন্য ইরানকে দায়ী করে। 
অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ায় ইরান সমর্থন দিচ্ছে শাসক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে। অপরদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব রাষ্ট্রগুলো বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। কাতার এখন পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হিসেবেই বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আসছে। এছাড়া ইয়েমেনেও ইরান সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের তাড়াতে সৌদি সামরিক অভিযানের অংশ কাতার। তবে সম্পর্কচ্ছেদের কারণে কাতারি সেনাদের বহিষ্কৃত করেছে সৌদি আরব। 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

saleh ahmad

২০১৭-০৬-০৫ ১০:৫৮:০৯

muslimder modde fatol srishti korar govir shorojontro.. allah save as muslimummah

Kazi

২০১৭-০৬-০৫ ০১:৪৪:১৯

Arabs countries are victims of mis understanding . Enemy is successful by hacking. Dividing United countries was target of hackers. They win Arabs countries fail to keep unity.

Selina

২০১৭-০৬-০৫ ০১:২৮:৪৪

Unity ...unity ..no division in Muslim ummah .

Mohammed Imam Hoss

২০১৭-০৬-০৫ ০০:৩২:২৪

অান্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে অারব দেশ গুলোর মধ্যে পরস্পর দ্বন্ধ, যুদ্ধবিগ্রহ লাগিয়ে দিয়ে দূর্বল করার অপচেষ্টা।

আপনার মতামত দিন