সুস্থ সমাজ গড়ার বার্তা দিল ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব

ভারত

অনলাইন ডেস্ক | ২৬ মে ২০১৭, শুক্রবার
বারাসাতের রবীন্দ্র ভবনে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত হল 'ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব'। সম্প্রতি কালের পড়শি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মহামিলন অনুষ্ঠান এটি। এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত-নৃত্য-আবৃত্তি-নাটক পরিবেশন করলেন বহু বিশিষ্ট শিল্পীরা। এছাড়াও পুরস্কার গ্রহণ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা, নাগির্স চৌধুরী, আনিসা বিনতে আবদুল্লা, নকুল কুমার বিশ্বাস, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সেলিম সামসুল হুদা চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী মাসুম আজিজুল বাসার, মজুমদার বিপ্লব নৃত্য শিল্পী মণি ও মুক্তা প্রমুখকে। ভারতের কথামালা ও কবিতা কানেকশন এই সব বাংলাদেশের শিল্পীকে মনোনীত করে চিঠি পাঠায়। উততরীয়, মানপত্র, মেমেন্টো ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর উপর লেখা গবেষণা গ্রন্থ "নজরুল সাহিত্যে দেশকাল" ড. সা'আদুল ইসলাম রচিত 'উদার আকাশ প্রকাশন' থেকে প্রকাশিত বইটি প্রত্যেক পুরস্কা প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বারাসাত কথামালা ও বাংলাদেশের অবাক পৃথিবীর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন "ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব"। বারাসাত রবীন্দ্র ভবনে।
দুই বাংলার এই মহা মিলনোৎসবে এসেছিলেন পশ্চিমবাংলার ও বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত শিল্পীরা। আবৃত্তি শিল্পী, সংগীত শিল্পী , নৃত্য শিল্পীদের সমন্বয়ের সাথে যুক্ত হতে এবং মহান এই প্রয়াসকে উৎসাহিত করবার জন্য অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এসেছিলেন এবং অনুষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে তাঁরা মূল্যবান বক্তব্যও রাখেন। মৈত্রী উৎসবকে সফল করতে তাঁদের শুভেচ্ছা বার্তা আগেই পাঠিয়েছিলেন।

উৎসবের মূল উদ্যোক্তা হলেন বারাসাত কথামালার সম্পাদক, কবি ও আবৃত্তি শিল্পী আবেদিন হক আদি। আমান্ত্রিত অতিথি ও শিল্পীরা যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে উদ্বোধন পর্বে ছিলেন মন্ত্রী পূর্নেন্দু বসু, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাধিপতি রেহেনা খাতুন, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রফেসর গৌতম পাল, জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি অধিকর্তা প্রসেনজিৎ মণ্ডল, উদার আকাশ-এর সম্পাদক ফারুক আহমেদ, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল কাইউম সহ বঙ্গবন্ধু ফাউনডেশান এর সচিব পর্যায়ের বেশ কিছু আধিকারীক হাজির ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সেলিম সামসুল হুদা চৌধুরী, সংগীত শিল্পী নার্গিস চৌধুরী,নকুল কুমার বিশ্বাস, তানজিনা রুমা, আনিসা বিনতে আব্দুল্লা, বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মাসুম আজিজুল বাসার, মজুমদার বিপ্লব,নৃত্য শিল্পী মনি-মুক্তা, অবাক পৃথিবীর সম্পাদক জহিরুল ইসলাম খোকন সহ এপার বাংলার বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী দেবাশিষ চক্রবর্তী, সেলিম দুরানি বিশ্বাস, পলাশ দাস, মৌটুসী দত্ত, সাবিনা সৈয়দ, সংগীত শিল্পী জয়ন্তী রায়কেও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই সব শিল্পীগোষ্ঠীর অনেকেই দুই বাংলার মন ছুঁয়ে যান। সমস্ত অতিথিদের ও শিল্পীদেরকে "ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মান" প্রদান করেন আয়োজক কমিটি ও কথামালার সম্পাদক আবেদীন হক আদি। এই মৈত্রী উৎসব দুই বাংলার কবি সাহিত্যিকদের সাংস্কৃতিক মননের আদান প্রদান ছিল দেখার মতো। প্রথমে ফিতে কেটে তারপর সাদা পায়রা উড়িয়ে শুভ সূচনা হয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন সকলকেই মুগ্ধ করে। সুস্থ সমাজ গড়তে এমন উদ্যোগ ভারত বাংলাদেশের প্রগতিশীল মননকে প্রাণিত করবে। সুস্থ সমাজ গড়তে এবং ভারত বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তৈরি করতে বড় ভূমিকা নিল। মন্ত্রী পূর্নেন্দু বসু উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ-এর হাতে "ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মান" তুলে দিলেন। ভাষাবিদ পবিত্র সরকার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। নেয়াখালি প্রতিদিন এর সম্পাদক রফিক আনেয়ার এর হাতে সম্মান তুলে দেন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন