এই ভোগান্তির শেষ কবে?

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ মে ২০১৭, শনিবার
রাজধানীতে উন্নয়ন কাজে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিটিসিএল, গ্যাসলাইন এবং মেট্রে রেলের কাজের জন্য এই ভোগান্তি। প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজে প্রধান সড়কের অর্ধেক কেটে রাখায় পথচারী ও যানবাহন ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। গতকাল সরজমিন দেখা যায়, আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামনে থেকে শুর করে রোকেয়া সরণি পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। প্রধান সড়কের বড় রাস্তার অর্ধেকের বেশি কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে ব্যস্ততম এ রাস্তায় ধীরগতিতে গাড়ি চলছে।
যানজট লেগে থাকে সবসময়। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একাধিক পথচারী, বাসযাত্রী ও চালকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। বিহঙ্গ বাসের চালক নূর মিয়া জানান, বেশি কিছুদিন ধরে এই রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। রাস্তাগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে একটি বাস রাস্তা দিয়ে কোনোভাবে চলতে পারে। ব্যস্ততম এ রাস্তায় মিরপুরগামী সব গাড়ি চলাচল এ রাস্তা দিয়েই করে। এর জন্য সময় মতো সিগন্যাল না ছাড়লে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়। ৫ মিনিটের রাস্তায় আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। একই বাসের যাত্রী আল আমিন জানান, খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তাকে এতো ছোট করা হয়েছে যে, গাড়ি চলে ধীর গতিতে। আর কদিন পরপরই ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করে। তিনি বলেন, এ রাস্তায় আগে যানজট থাকত না। কিন্তু এখন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোশেনের ঠিকাদার রাকিবউদ্দিন আহমেদ জানান, এখানে শুধু সিটি করপোরেশন না আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজ হচ্ছে। মূলত আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেলের একটি স্ট্রেশন হবে। যার কারণে এখানকার মাটির নিচে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা বিটিসিএল, সিটি করপোরেশন, তিতাসের গ্যাস লাইন ও ওয়াসার পানির  লাইনগুলো সরানো হচ্ছে। এ কাজ প্রায় এক মাস ধরে চলছে। আরো কয়েক মাস এভাবেই থাকবে। নির্মাণশ্রমিক সাইদুর রহমান জানান, আমরা অনেকদিন ধরে কাজ করছি। মাটির নিচে লাইন সরানোর কাজ করছি। মূলত এখানে মেট্রো রেলের কাজ হচ্ছে। রোকেয়া সরণি রোডের অবস্থাও একই। সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তার অর্ধেক কেটে ফেলে হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় ব্যয় হচ্ছে অনেক বেশি। শেওড়াপাড়া গিয়ে দেখা যায়, আগে যে খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল সেদিক দিয়ে এখনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। ফুটপাত থেকে রাস্তা আলাদা করা হয়েছে। ফলে পথচারীরা এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। ধুলোবালিতে একাকার হয়ে থাকে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা এ রাস্তা দিয়ে  চলাচল করার সময় মাস্ক ব্যবহার করেন। আবার বৃষ্টি হলে কাদার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী অলি হোসেন জানান, এ রাস্তা পুরোপুরি ঠিক না হলে ব্যবসায় বেচাকেনা ভালো হবে না। আর এলাকাটি পুরো বস্তির মতো হয়ে গেছে। শুধু আগারগাঁও, রোকেয়া সরণি, শেওড়াপাড়া নয়; রাজধানীর অনেক স্থানেই উন্নয়ন কাজের ভোগান্তিতে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মালিবাগ-মৌচাকে এ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকা দিয়ে চলাচলকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত ব্যস্ততম একটি রাস্তা গত কয়েক মাস ধরেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মেট্রো রেল, সিটি করপোরেশনসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ চলছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বাস, রিকশা, পায়ে হাঁটা পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহন এক রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। আবার মৌচাক থেকে মালিবাগ মোড়ের রাস্তার পাশে ড্রেনের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ড্রেন ফুটপাত আর প্রধান সড়ক কেটে একাকার করা হয়েছে। ফলে রাস্তা অনেকটা সরু হয়ে গেছে। চারদিক থেকে আসা যানবাহনগুলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এছাড়া শান্তিনগর রাজারবাগসহ আশপাশের অনেক এলাকাই এখন উন্নয়ন কাজের জন্য সৃষ্ট সমস্যার ভোক্তভোগী। ভোগান্তির কারণে অনেকই এই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া নোংরা কাদায় এসব এলাকায় হাঁটা-চলার কোন উপায় থাকে না। তাই অনেক ভাড়াটিয়া এখান থেকে চলে গেছেন।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভোটার ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার

আলোচনার ক্ষেত্র রেখেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা: আমির খসরু

দুপুরেও বিএনপি মনে করছে রাত শেষ হয়নি: ডা. জাফরুল্লাহ

‘দোষ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা’

দুই পাণ্ডার পরিবেশ বান্ধব বিমানযাত্রা

এমপি তাপসের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলেন ব্যবসায়ীরা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কাল থেকে হচ্ছে না

‘মামলা প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না’

চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশী সহ নিহত ৯

‘সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপিই দাবি পূরণ করবে’

সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে তুরস্কের স্থলবাহিনী

‘অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার’

চা: একটি শব্দের ইতিবৃত

ছুরিকাঘাতে এক রোহিঙ্গা নিহত

‘পদ্মাবত’ ছবি নিয়ে উত্তেজনা