ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু, সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালককে জামিন

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ মে ২০১৭, শনিবার
রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এমএ কাসেমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এই মামলা দায়ের করা হয়। গতকাল বিকাল চারটার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এক হাজার টাকা বন্ডে এবং স্থানীয় দু’জন জামিনদারের জিম্মায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এই আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মকবুল হোসেন  গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার এমএ কাসেমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে ধানমন্ডি থানার পুলিশ। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহিল কাফী বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পরিচালককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের পরিচালকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সকালে তাকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, রাশেদ ইউসুফ, ডা. মর্তুজা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এএসএম মাতলুবুর রহমান, ডা. মাসুদা পারভীন, ডা. জাহানারা বেগম মোনা, ডা. মাকসুদ পারভীন, ডা. তপন কুমার বৈরাগী ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. এমএ কাসেম। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ১৭ই মে বুধবার ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাকে ক্যানসারের চিকিৎসা দেয়া হয়। ১৮ই মে বিকালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হলে তার সতীর্থরা গ্রিন রোডের বেসরকারি এই হাসপাতালটিতে ভাঙচুরও চালিয়েছিল। এরপর রাতে মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী। তবে শুরুতে যার অধীনে চৈতী চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেই অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, পরীক্ষা করেই তারা ব্লাড ক্যানসারে হয়েছে বলে নিশ্চিত হন। তাকে যখন আনা হয়েছিল অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে আইসিইউতে নেয়া হয়। আইসিইউতে নেয়ার পর চিকিৎসা পুরোপুরি শুরু করার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঢাবির ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুতে চিকিৎসকের কোনো ভুল ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। রোগীর মৃত্যু কোনো চিকিৎসকের কাছেই কাম্য নয় বলেও উল্লেখ করে তিনি। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, যদি ভুল হয়েও থাকে তাহলে হাসপাতালে কেন ভাঙচুর। হাসপাতালে ভাঙচুর ও পরিচালকসহ অন্যদের মারধরকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় শত শত রোগীর চিকিৎসায় ব্যঘাত ঘটে। অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছাড়ায়। চৈতীর বাড়ি চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায়। শামসুন্নাহার হলে সংযুক্ত এই ছাত্রী থাকতেন পলাশী এলাকায়। সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহিল কাফী জানান, স্বজনরা ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে রাতেই চৈতীর লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। এদিকে, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক সেলিম হোসেন মানবজমিনকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকেই তদন্ত শুরু করেছি। তা অব্যাহত রয়েছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। মামলার আসামি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এমএ কাসেমকে সকালেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ৩০৪ক/৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এদিকে, এমএ কাসেম তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরুর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন।
জামিন শুনানিতে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু আদালতকে বলেন,  গ্রেপ্তারকৃত ডা. এমএ কাসেমের বিরুদ্ধে যে আভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ আসামি নির্দোষ ও নিরীহ। তার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। তাই আসামির জামিন মঞ্জুর করার আবেদন করছি। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মকবুল হোসেন আসামির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এই মামলা স্পর্শকাতর, তাই জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানাচ্ছি।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ

উৎসবের আমেজে সারাদেশ

জনগণের দেয়া রায় মেনে নেবে বিএনপি: ফখরুল

কংগ্রেস সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর আনুষ্ঠানিক অভিষেক

দুই নারীর একজন স্বামী, অন্যজন স্ত্রী

আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নওগাঁয় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গার্মেন্টে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে এইচ অ্যান্ড এম

নাশকতার অভিযোগে ২০ শিবিরকর্মী আটক

বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা

বিজয় উৎসব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৯

আমৃত্যু এক যোদ্ধার কথা

ছাত্রদলের পুষ্পস্তবক ছিঁড়লো ছাত্রলীগ

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন