হাওরাঞ্চলে ভিজিএফ বঞ্চিতদের বিক্ষোভ

বাংলারজমিন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২০ মে ২০১৭, শনিবার
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে সঠিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুযোগ না দেয়ায় অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় টাকার বিনিময়ে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের। আবার অনেকেই টাকা দিয়েও ভিজিএফ কার্ড পাচ্ছে না। হচ্ছেন প্রতারিত। সুযোগ বুঝে সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে সুবিধা ভোগ করছেন অনেকে এবং তাদের সহযোগীরা। এসব কারণে বিক্ষোভ, অভিযোগ দায়ের ও সংঘর্ষে ক্রমেই উত্যপ্ত হয়ে উঠছে সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল। জানা যায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলায় ভিজিএফ কার্ড তৈরি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ। এতদিন কেউ অভিযোগ না করলেও গত বুধবার বিকালে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ২০ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দেয়া হয়েছে। উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৪নং ওয়াডের্র সদস্য আব্দুর রউফ সরকারি খরচের কথা বলে ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে হলহলিয়া গ্রামের দুলাল মিয়া, কুলসুমা বেগম সহ শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে ২-৩ শ’ টাকা, কারো কাছ থেকে আরো বেশি  আদায় করেছে। কিন্তু এর পরও তাদের ভিজিএফ কার্ড দেয় নি ওই মেম্বার। এ বিষয়ে দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজহর আলী জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে যাচাই-বাছাই করে ভিজিএফ কার্ডের চাল ও নগদ টাকা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে জেলার বিশ্বম্ভরপুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিজিএফ বঞ্চিতরা। গত মঙ্গলবার জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউপির হাওরের বোরো ফসল হারা প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও দরিদ্র চাষিরা তাদের নামে (ভিজিএফ তালিকাভুক্ত) বরাদ্দের নগদ ৫০০ টাকা ও ৩৮ কেজি চাল না পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত ভাবে বঞ্চিতদের তালিকা জমা দেন ভুক্তভোগীরা। ফতেহপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীরা জানান, ভিজিএফ তালিকাভুক্তদের অনেকেই প্রাপ্য ভিজিএফের চাল ও নগদ টাকা পাননি। ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুল হেকিম হাওরের ফসলহারা প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও দরিদ্র চাষির নাম ভিজিএফ কার্ডে তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেন। পরে নির্ধারিত দিনে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু সুবিধা ভোগীদের নাম তালিকাভুক্ত করলেও সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই। আরো জানা যায়, ভিজিএফ তালিকাভুক্ত (মাস্টাররোলভুক্ত) ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধা ভোগীদের নাম তালিকা থাকলেও নামের টুকা অন্যজন টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে গেছে। মেম্বার বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রি করেছে। ফলে তালিকাভুক্তরা চাল ও নগদ টাকা পান নি। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভুক্তভোগীরা জানান, আমাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে পরে জেনেছি কিন্তু চাল ও নগদ টাকা পাই নি। শুনেছি অনেক লোক টাকা দিয়ে চালের স্লিপ কিনেছেন। এ বিষয়ে ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, যদি কেউ স্লিপ না পেয়ে থাকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যববস্থা নেয়া হবে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, আমার উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের জন্য কেউ টাকা নিয়ে থাকলে বা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ভিজিএফ সহ অন্যান্য সহযোগিতা না পেয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন