হবিগঞ্জে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম অনিশ্চিত

বাংলারজমিন

এম এ বাছিত, হবিগঞ্জ থেকে | ২০ মে ২০১৭, শনিবার
হবিগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে চাল ক্রয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেনি। কৃষকদের কাছ থেকেও বোরো ধান সংগ্রহের নির্দেশনা আসেনি। ফলে ধান-চাল সংগ্রহ নিয়ে খাদ্য বিভাগ রীতিমতো বিপাকে পড়েছে। জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ২০শে মে পর্যন্ত সরকারিভাবে চাল সংগ্রহের জন্য মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।
গতকাল পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো সারা মিলেনি। হবিগঞ্জ জেলার ৬০টি মিল মালিকের  একজনও চুক্তি করেননি। তাদের কাছ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে ১৮২৯ টন সিদ্ধ এবং ৩৩ কেজি দরে ১৫৩৭ টন আতব চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ছিল। খাদ্য বিভাগ দফায় দফায় তালিকাভুক্ত এসব মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো কাজে আসছে না। মিল মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, একদিকে অকাল বন্যায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অপরদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে চালের মূল্য অনেক বেশি। এ অবস্থায় লোকসান দিয়ে তারা চাল সরবরাহ করতে রাজি নয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এক মৌসুমে মিলমালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চাল সরবরাহে চুক্তি না করলে চার মৌসুম (অর্থাৎ ২ বছর) সরকারের সঙ্গে আর চুক্তির সুযোগ পাবে না। যারা চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করতে পাবে না তারা দুই মৌসুমের জন্য (অর্থাৎ ১ বছর) চুক্তি বহির্ভূত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৫ হাজার ৩৩৬ টন। মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সিদ্ধ ৫ হাজার ৪১৬ টন ও আতব ৫ হাজার ৪৯২ টন। ওই সময়ে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হলেও ধান সংগ্রহ হয় অর্ধেক। তখন ধান সংগ্রহ হয়েছিল ৮ হাজার ১৩৩ টন। এ ব্যাপরে ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবদুছ ছালাম জানান, ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত চাল ক্রয়ের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। যদিও ২০শে মে পর্যন্ত মিলারদের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি মিল মালিকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চুক্তি সম্পাদন করবেন। ধান ক্রয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জেলায় কি পরিমাণ ধান সংগ্রহ করতে হবে এ নির্দেশনা এখনও আসেনি। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ৫৬ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমি বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৬ টন হিসেবে ধান নষ্ট হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬০ টন। মৌসুমে ফসল সংগ্রহ ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চরম সংকটে রয়েছে জেলা খাদ্য ভিবাগ।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভোলায় যাত্রীবাহি বাস খাদে, নিহত ১

হলিউডে যৌন নির্যাতন ও একটি হ্যাসট্যাগ

আমাজন স্টুডিওর প্রধান কর্মকর্তার পদত্যাগ

চট্টগ্রামে মহাসড়কের পাশে নারীর লাশ

চট্টগ্রামে হোটেলে জুয়ার আসর, ব্যবস্থাপকসহ আটক ৬২

‘আওয়ামী লীগ ইসিকে স্বাধীনতা প্রদান করেছে’

বাংলাদেশেও সেখানকার মতো বিচার ব্যবস্থা দেখতে চান

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে আহত দুই পুলিশ

‘দর্শকরা একজন শিল্পীর কাছে সব সময় ব্যতিক্রমী কিছু দেখতে চায়’

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

বিতর্কে নয়া রসদ

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ