২১ বছরে ধরে যাত্রীবাহী বিমান চালিয়েছেন নেদারল্যান্ডের রাজা!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
নেদারল্যান্ডের রাজা উইলেম অ্যালেক্সান্ডার ২১ বছর ধরে দেশের সরকারী এয়ারলাইনে পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন। ‘অতিথি পাইলট’ হিসেবে তার এই দীর্ঘ ‘ক্যারিয়ারে’র কথা প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে তিনি প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন তার গোপন ‘ডাবল লাইফ’-এর কথা। একদিকে পাইলটের পোশাক আর টুপি। অন্যদিকে রাজকীয় মুকুট আর সবকিছু। স্থানীয় পত্রিকা দা টেলেগ্রাফকে তিনি বলেন, ফোকার ৭০ বিমানের পাইলট ছিলেন তিনি। তবে নেদারল্যান্ডের রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন (কেএলএম) কর্তৃপক্ষ ফোকার বিমান সরিয়ে নেয়ায় রাজা এখন বোয়িং ৭৩৭ বিমানের পাইলট হিসেবে নতুন করে প্রশিক্ষন নেবেন। বার্তাসংস্থা এপির খবরে বলা হয়, রাজা উইলেম অ্যালেক্সান্ডার একজন প্রশিক্ষিত পাইলট, এটি গোপন নয়। মাঝে মাঝে কেএলএম’র যাত্রীবাহী বিমান তিনি উড়িয়েছেন, এটিও জানা কথা। কিন্তু এটি জানা ছিল না, তিনি কি নিয়মিতই এ কাজে ছিলেন কিনা। দা টেলেগ্রাফের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, মাসে দু’ বার যাত্রীবাহী বিমান উড়িয়েছেন রাজা।
তবে তিন সন্তানের পিতা ৫০ বছর বয়সী এই রাজা জানিয়েছেন, পাইলটগিরি করা তার শখ। আর এই কাজের ফলে তিনি কিছুক্ষণের জন্য রাজদায়িত্ব ছেড়ে অন্য কিছুর ওপর মনযোগী হতে পারেন। ১ কোটি ৭০ লাখ নেদারল্যান্ডবাসীর এই রাজা বলেন, ‘আপনার হাতে যখন একটি বিমান থাকবে, বিমানের যাত্রী ও ক্রুরা থাকবে, তখন তাদের দায়িত্ব আপনার ওপর থাকবে। আর আপনি তখন আপনার সমস্যা নিয়ে ওই বিমান চালাতে পারবেন না। আপনি তখন সবকিছু ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে অন্য কিছুর ওপর মনযোগী হতে পারবেন। আমার জন্য বিমান চালনার সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক দিক হচ্ছে সেটা।’
তবে রাজা বলেছেন, ২১ বছর ধরে বিমান চালালেও যাত্রীরা তাকে খুব কমই চিনতে পেরেছেন। বিশেষ করে, ৯/১১ হামলার পর বিমান নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পর তো নয়ই। তার ভাষ্য, ‘৯/১১ হামলার পূর্বে বিমানের ককপিট দরজা খোলা থাকতো। মানুষ প্রায়ই আসতো বৈমানিকদের দেখতে। হঠাত আমাকে দেখতে পেলে অবাক হতো।’ তিনি এ-ও জানান, রাজধানী আমস্টার্ডামের শিফল বিমানবন্দর দিয়ে তিনি যখন কেএলএম-এর ইউনিফর্ম ও টুপি পরে বিমান চালাতে যেতেন বা ফেরত আসতেন, তখন খুব কম মানুষই তাকে চিনতে পেরেছে। আবার বিমানচালক হিসেবে তিনি যখন যাত্রীদের ‘অ্যানাউন্সমেন্ট’ দিতেন, তখন তিনি নাম বলতেন না। অবশ্য কো-পাইলটদের নাম বলাটা বাধ্যতামূলক নয়। এরপরও গুটিকয়েক মানুষ তার কণ্ঠ ধরে ফেলতে পেরেছেন। ‘তবে বেশিরভাগ মানুষই এটা শোনে না,’ তিনি যোগ করেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন