পাকিস্তানে আটকে গেলো ভারতীয় 'গুপ্তচরের' ফাঁসি

অনলাইন

| ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার, ১০:০৬
দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আইসিজে
দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে আজ পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছে, ভারতীয় গুপ্তচর হিসেবে ধৃত কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড যেন তারা চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে কার্যকর না করে।
জাতিসংঘের ওই আদালতে দুই দেশের সওয়াল জবাবের পরই আজ বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে পাকিস্তানে মি যাদবের ফাঁসির ওপর এই স্থগিতাদেশ জারি করেছেন, যেটাকে ভারত প্রথম রাউন্ডে তাদের বিজয় বলে দাবি করেছে।
তবে পাকিস্তান সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আইসিজে'র এক্তিয়ার তারা মানবে না এবং তাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসও দাবি করছে চূড়ান্ত রায়ের ওপর আজকের এই স্থগিতাদেশের কোনও প্রভাব পড়বে না।
পাকিস্তানের সামরিক আদালত ভারতীয় গুপ্তচর হিসেবে ধৃত কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছিল গত মাসে। তার পর থেকেই সেই ফাঁসি ঠেকানোর জন্য ভারত কূটনৈতিক পথে ও নানা আন্তর্জাতিক ফোরামে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
অবশেষে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস আজ এই মামলায় যে অন্তর্বর্তী রায় দিয়েছে সেটাকে ভারত সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই দেখছে।
তার কারণ এই জাতিসংঘ আদালতের প্রেসিডেন্ট রনি আব্রাহাম আজ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ওই ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে না। তিনি বলেন, "কোর্ট সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে এখানে এই মামলা চূড়ান্ত পরিণতিতে না পৌঁছনো পর্যন্ত পাকিস্তানকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে এটা নিশ্চিত করতে হবে যাতে মি যাদবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা হয়।"
"এ জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ তারা নিচ্ছে সেটাও কোর্টকে জানাতে হবে। আর আমরা এটাও মনে করি যে পাকিস্তানের উচিত ভারতকে কুলভূষণ যাদবের জন্য কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া।"
এই মামলার শুনানিতেই পাকিস্তান আগে যুক্তি দিয়েছিল, কনস্যুলার অ্যাকসেসের প্রথা গুপ্তচরদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
এই রায়ের কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া বলেন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে আইসিজে'র কোনও মামলা শোনার এক্তিয়ার আছে বলেই তারা মনে করেন না।
তবে পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, আইসিজে আপাতত শুধু স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছে এবং এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে চূড়ান্ত রায়ের সঙ্গে এই অন্তর্বর্তী আদেশের কোনও সম্পর্ক নেই।
এই রায় পাকিস্তান মানবে কী-না, ইসলামাবাদ তা এখনও স্পষ্ট করেনি। কিন্তু পাকিস্তানি বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুল বলছেন মামলাটা পাকিস্তানের হাত থেকে বেরিয়ে গেছে এখনই এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
তার কথায়, "পাকিস্তান তো বলেছে সামরিক আদালতে যে বিচার হচ্ছে, সেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের ফরমান প্রযোজ্য নয়। ফলে এখন তারা ঠিক কী করবে সেটা পরিষ্কার নয়।"
"কিন্তু আইসিজে'র পরবর্তী শুনানিতে অংশ নিলে তাদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে কুলভূষণ যাদব সত্যিই একজন গুপ্তচর। পাকিস্তান বহুবার বলেছে এ ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ তাদের হাতে আছে, কাজেই তাকে গুপ্তচর প্রমাণ করা অবশ্যই সম্ভব।"
এদিকে ভারতে এই রায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল চরম উচ্ছ্বাসের। অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি দাবি করেন, এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়ে গেল পাকিস্তান কুলভূষণ যাদবের বিচারের নামে একটা প্রহসন করেছে।
তিনি বলেন, "সামরিক আদালতে বা ইন-ক্যামেরা বিচারের নামে আসলে যে কিছুই হয়নি, একটা লোক দেখানো নাটক সাজানো হয়েছে এখন সারা দুনিয়া তা জেনে গেল। আইসিজে'র এক্তিয়ার আসলে কী, তা তো চূড়ান্ত রায়েই দেখা যাবে - কিন্তু এই রায় মানাটা যে দুই দেশের জন্যই বাধ্যতামূলক তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।"
গত দেড় মাস ধরে যার জীবন সরু সুতোয় ঝুলছে, পাকিস্তানের জেলে বন্দি সেই কুলভূষণ যাদব শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যাবেন এমন কোনও নিশ্চয়তা এদিনের রায়ে নেই।
তবে অন্তত সামনের আগস্ট মাস অবধি হয়তো তিনি বেঁচে থাকবেন, আজকের পর সেটার সম্ভাবনা বাড়ল বলে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন