অপরাজিত থাকা হলো না গাজীর

হঠাৎ দুর্দান্ত কলাবাগান

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৬
টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। হারিয়েছে আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মতো শক্তিশালী দলকেও। অথচ গতকাল ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে চলতি আসরে মাত্র দুটি ম্যাচে জয় পাওয়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে হেরে গেল তারা ১২৭ রানের ব্যবধানে। মাত্র ২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গুটিয়ে গেছে ৯৫ রানে। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে তাদের প্রথম হারটা এত বাজে হবে কেউ হয়তো ভাবেনি। অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আসলে ব্যাটিংটা বেশ খারাপ করেছি।
যে কারণে এভাবে হারতে হয়েছে। এরচেয়ে বেশি কিছু না। প্রথমদিকে উইকেট কিছুটা ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো ছিল। কিন্তু দিন গড়াতেই বোলাররা বেশি সুবিধা পেতে শুরু করে। স্পিনটা বেশ ধরছিল।’ ক্রিকেট বলে কথা। এখানে ছোট বড় দল বলে কিছুই নেই। তাই বলে এমন হার! কিছুটা প্রশ্ন থাকলেও অধিনায়ক বারবার দুষলেন ব্যাটিংকেই। টসে জিতে তুষার ইমরান, আশরাফুলদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল গাজী অধিনায়ক। কিন্তু ব্যাট হাতে দারুণ শুরু করেন ওপেনার তাসামুল হক। লীগের আগের ৯ ম্যাচে তার ৮৯ রানের ইনিংসটি সেরা। গতকাল সব ছাড়িয়ে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। যদিও তার সঙ্গী হতে পারেনি কেউ। শেষ পর্যন্ত ঢাকার ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ১০২ রান করে আউট হন। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। গাজীকে ভুগিয়েছে স্পিনার সনজিত সাহা ও লেগ স্পিনার হাফিজ সাদ নাসিম। তারা ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন কলাবাগানের হয়ে। বাজেভাবে হারলেও  ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গাজী এখনো শীর্ষে রয়েছে। আগের খেলাতেই আশরাফুলের নৈপুন্যে কলাবাগান আরেক শক্তিশালী দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে হারিয়েছিল।
এই জয়ে কলাবাগান এখন অবনমন থেকে অনেকটাই নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান এখন তালিকার নবম স্থানে। তাদের পরে অবস্থান ২ পয়েন্ট পাওয়া পারটেক্স ও ভিক্টোরিয়ার  স্পোর্টিং ক্লাবের। ধরে নেয়া যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত এই দুই দলই অবনম হবে লীগে। গাজী ছাড়াও এখন পর্যন্ত সুপার লীগ নিশ্চিত করেছে আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক ও প্রাইম দোলেশ্বরসহ পাঁচ দল। ষষ্ঠ দল হিসেবে জায়গা করে নেয়ার লড়াই এগিয়ে আছে শেখ জামাল, মোহামেডান। ১১তম রাউন্ডে শেষ হতে ষষ্ঠ দল পেয়ে যাবে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ।
গতকালের ম্যাচের আগে গাজী ও কলাবাগানের লড়াইটি অসমই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু খেলা দেখে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। উল্টো কলাবাগানের বিপক্ষে গাজী গ্রুপকে অসহায় দেখাচ্ছিল। জবাব দিতে নেমে দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় নাদিফ চৌধুরীর দল। আসা যাওয়ার মিছিলের শুরু এখান থেকেই। কেবল তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন। বাকি ৮ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ রান এসেছে সোহরাওয়ার্দী শুভর ব্যাট থেকে। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী। এছাড়া এনামুল হক বিজয় ১৬ ও আবু হায়দার রনি ১১ রান করেন। কলাবাগানের সানজিত সাহা মাত্র ৭ রান খরচ করে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এছাড়াও পাকিস্তানি ক্রিকেটার সাদ নাসিমও তিন উইকেট নেন মাত্র ১২ রান খরচ করে। পেসার আবুল হাসান রাজুর সঙ্গে অধিনায়ক তুষার ইমরান দুটি উইকেট নিয়ে দেখিয়েছেন তার বোলিং ভেলকি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ১৫৩ ম্যাচে এটি তুষারের ২৯তম উইকেট শিকার।
এরআগে ব্যাট করতে নেমে বলতে গেলে একাই কলাবাগানকে টেনেছেন সেঞ্চুরিয়ান তাসামুল হক। অন্য প্রান্তে ভাঙনে একে একে ব্যাটসম্যানরা তার সঙ্গ ছাড়লেও লড়ে গেছেন ডানহাতি এ ওপেনার। ম্যাচসেরা এ ব্যাটসম্যান ১৩২ বলে ৬ চারে খেলেছেন ১০২ রানের দারুণ এক ইনিংস। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫১তম ম্যাচে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। এছাড়া তুষার ইমরান ৩২, জসিমউদ্দিন ২৮ ও সাদ নাসিম ২০ রান করেন। গাজী গ্রুপের পারভেজ রসুল ৪৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন।  
সংক্ষিপ্ত স্কোর
গাজী ক্রিকেটার্স-কলাবাগান ক্রীড়াচক্র
টস: গাজী গ্রুপ (ফিল্ডিং)
কলাবাগান ক্রীড়াচক্র: ৫০ ওভারে ২২২/৯ (তাসামুল হক ১০২, তুষার ইমরান ৩২, আশরাফুল ১৫, পারভেজ রসুল ৪/৪৪)।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৩২.৫ ওভারে ৯৫ (নাদিফ চৌধুরী ৪৫, এনামুল হক বিজয় ১৬, আবু হায়দার ১১, সঞ্চিত সাহা ৩/৭, সাদ নাসিম ৩/১২, তুষার ইমরান ২/১৯, রাজু ২/২৪)।
ফল: ১২৭ রানে কলাবাগানের জয়।
ম্যাচসেরা: তাসামুল হক।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন