রোমাঞ্চ বাড়লো শেষ রাউন্ডে

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
জয় পেলেই সুপার লীগের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেতো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। তবে ম্যাচে বড় হার নিয়ে বরং শঙ্কায় পড়লো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। ঘরোয়া লিস্ট-এ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ১২৯ রানে হার দেখে মোহামেডান। এতে আসরে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে আটকে রইলো তারা। দিনের অন্য ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে সুপার লীগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ওভারে তিন উইকেটে জয় কুড়ায় শেখ জামাল।
এতে সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে  রান গড়ে পয়েন্ট তালিকায় মোহামেডানকে টপকে যায় শেখ জামাল ধানমন্ডি। তালিকায় শেখ জামাল পঞ্চম ও মোহামেডানের অবস্থান ষষ্ঠ। এতে গুরুত্ব বাড়লো আসরের শেষ রাউন্ডে দু’দলের দ্বৈরথে। এগারোতম রাউন্ডে আগামী ২১শে মে মুখোমুখি হবে মোহামেডান-শেখ জামাল। ওই ম্যাচের বিজয়ী দল পেয়ে যাবে সুপার লীগের টিকিট। আর বিজিত দলকে চোখ রাখতে শেষ রাউন্ডে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ম্যাচের দিকে। ১০ ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট । নিজেদের শেষ ম্যাচে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের মুখোমুখি হবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। মোহামেডানের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও গতকাল শেখ জামাল ধানমন্ডির সাফল্যে শেষে সুপার লীগের আশা ফুরায়  ব্রাদার্স ইউনিয়নের। ১০ ম্যাচে ব্রাদার্সের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। আসরের এগারোতম রাউন্ডে ব্রাদার্স ইউনিয়নের লড়াই পয়েন্ট তালিকার তলানির দল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে।
লেজের জোর দেখালো শেখ জামাল

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রাজিন সালেহর বিদায়ে ফিকে দেখাচ্ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডির সম্ভাবনা। ২৭০ রানের টার্গেটে ৪০.৩ ওভার শেষে শেখ জামাল ধানমিন্ডর সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০১/৭-এ। জয়ের জন্য তখন তাদের দরকার ৫৭ বলে ৭০ রান। ততক্ষণে শেখ জামালের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা সবাই ফিরেছেন সাজঘরে। তবে এখান থেকেই রুদ্ধশ্বাস জয় কুড়ায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। অষ্টম উইকেটে ৫৩ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন ইলিয়াস সানি ও মাহমুদুল হক। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১০ রানের। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান ইলিয়াস সানি। পরের বলে সানি উইকেট হারালেও ব্রাদার্স পৌঁছে যায় দোরগোড়ায়। ইনিংসের এক বল হাতে রেখে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হক। আট নম্বরে ব্যাট হাতে ৪৭ বলে ৪৪ রান করেন ইলিয়াস সানি। এতে সানি হাঁকান তিনটি চার ও একটি ছক্কা। আর ২৩ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল হক। আর দিনশেষে প্রাইম ব্যাংকের হতাশার কারণ ছিল ইনিংসে চার চারটি রানআউট।  বিকেএসপি মাঠে টস জিতে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শেখ জামাল ধানমন্ডি অধিনায়ক রাজিন সালেহ। আর ব্যাট হাতে দারুণ শুরুতে বড় পুঁজির সম্ভাবনা জাগায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ওপেনিংয়ে ৯৪ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মেহেদী মারুফ ও জাকির হাসান। আর ৩৮ ওভার শেষে প্রাইম ব্যাংকের সংগ্রহ পৌঁছে ২০৩/২-এ। তবে পরে রানআউটে কাটা পড়ে প্রাইম ব্যাংকের তিন উইকেট। একে একে সাজঘরে ফেরেন সালমান হোসেন, আসিফ আহমেদ ও তাইবুর রহমান। আর প্রাইম ব্যাংকের ইনিংসের ভোগান্তির শুরুটাও ছিল রানআউটে। ওপেনার জাকির হাসান উইকেট খোয়ান রানআউটেই। উইকেট না পেলেও ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ৪৩ রান দেন শেখ জামালের বাঁ-হাতি স্পিানর ইলয়াস সানি। খেলা শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে সানির হাতেই।
উজ্জ্বল সাজ্জাদ-জুনাইদ, বিরল ধস মোহামেডানের
মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে ব্যাট হাতে নৈপুণ্য নিয়ে ব্রাদার্সকে বড় পুঁজি এনে দেন দুই অভিজ্ঞ তারকা জুনাইদ সিদ্দিকী ও অলক কাপালী। পরে বল হাতে মোহামেডানের ইনিংস ধসিয়ে দেন ইফতেখার সাজ্জাদ। ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী মাঠে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মোহামেডান অধিনায়ক রকিবুল হাসান। আর ইনিংস শেষে ব্রাদার্সের সংগ্রহ পৌঁছে ২৭৬/৮-এ। দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকান জাতীয় দলের বাইরে থাকা ওপেনার জুনাইদ সিদ্দিকী। আর অলক কাপালী খেলেন ৪৮ বলে ৫১ রানের মারকুটে ইনিংস। এতে কাপালীর বাউন্ডারির মার ছিল ৭টি। ১২৩ বলে ১১০ রানের সংযত ইনিংসে জুনাইদ হাঁকান ৮টি বাউন্ডারি। লিস্ট-এ অভিষেকে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন ব্রাদার্সের তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রুবেল। ভারতীয় ব্যাটসম্যান মনবিন্দর বিসলা করেন ২৬ রান। জবাবে ইনিংসের ২১ ওভার শেষে সঠিক পথেই ছিল মোহামেডান। ২১.১ ওভার শেষে মোহামেডানের সংগ্রহ পৌঁছে ১০৩/১-এ। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন ওপেনার সৈকত আলী ও অভিষেক মিত্র। তবে বিরল ধসে ইনিংসের শেষ ৪৪ রানে ৮ উইকেট খোয়ায়  মোহামেডান। ইনজুরির কারণে ব্যাট করতে পারেননি সাজেদুল ইসলাম। এতে ৩৫.৪তম ওভারে ১৪৭ রানে থামে মোহামেডানের ইনিংস। ব্যক্তিগত এক অঙ্কের রানে সাজঘরে ফেরেন মোহামেডানের ৭ ব্যাটসম্যান। ব্রাদার্সের বল হাতে ৫.৪ ওভারের স্পেলে ১৯ রানে চার উইকেট নেন অফস্পিনার ইফতেখার সাজ্জাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক-শেখ জামাল
টস: শেখ জামাল ধানমন্ডি, ফিল্ডিং
প্রাইম ব্যাংক সিসি: ৫০ ওভার; ২৭০/৯ (মারুফ ৬১, ইশ্বরণ ৫৪, আল আমিন ৪২, জাকির ৩৪, আসিফ ৩১, শাহাদাত ২/৪৩, জিয়াউর ১/৪০)।
শেখ জামাল ধানমন্ডি: ৪৯.৫ ওভার; ২৭১/৮ (সোহাগ গাজী ৫৪, চোপড়া ৪৮, ইলিয়াস ৪৪, জিয়াউর ৩৪, মাহমুদ ২৭*, আরিফুল ৪/৭৫, তাইবুর ১/২০)।
ফল: ধানমন্ডি ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: ইলিয়াস সানি (শেখ জামাল)
মোহামেডান-ব্রাদার্স
টস: মোহামেডান, ফিল্ডিং
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪৯ ওভার; ২৭৬/৮ (জুনাইদ ১১০, কাপালী ৫১, রুবেল ৩৬, বিসলা ২৬, তাইজুল ২/৪১, এনামুল জুনিয়র ২/৫২, সাজেদুল ২/৬২)।
মোহামেডান এসসি: ৩৫.৪ ওভার; ১৪৭ (সৈকত ৭০, অভিষেক ২৯, রকিবুল ১৭, সাজ্জাদ ৪/১৯, কাজী কামরুল ২/৩১, নিহাদুজ্জামান ২/৩১)।
ফল: ব্রাদার্স ১২৯ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: জুনাইদ সিদ্দিকী (ব্রাদার্স)।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন