ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ বিষয়ে আগাম সতর্কতা জরুরি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ বিষয়ে আগাম সতর্কতা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছে আইইডিসিআর। এমন সতর্কতার কথা উল্লেখ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী  সেব্রিনা ফ্লোরার বলেছেন, এবছর হঠাৎ ভারি বর্ষণ আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মশার বংশবিস্তারের কারণে মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল মহাখালীতে ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরণ’ সভায় আইইডিসিআর পরিচালক আরো বলেন, এ বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কাজ করছে। সব জেলায় সিভিল সার্জন ও উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। র‌্যালি, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা এবং মসজিদের ইমামদের এ বিষয়ে কথাবার্তা বলতে বলা হয়েছে।
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এ রোগটি ডেঙ্গু, জিকা-এর  মতোই এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই। তবে একবার চিকুনগুনিয়া জ্বর হলে জীবনে আর চিকুনগুনিয়া জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, এ বছর এপ্রিল ও মে মাসের এ পর্যন্ত তাদের কাছে ১৩৯টি নমুনা এসেছে। এর মধ্যে ৮৬টি নমুনায় চিকুনগুনিয়া রোগ ধরা পড়েছে। সমপ্রতি কলাবাগান, রামপুরা ও ফার্মগেট এলাকা থেকে রোগী বেশি আসছে। তবে ঢাকার সব জায়গা থেকে চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খবর আসছে। ঢাকার বাইরের থেকে এ সংক্রান্ত কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে চট্টগ্রামে একটি নমুনা তারা পেয়েছেন। অন্যদিকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ১৪৫টি নমুনা এসেছিল, তার মধ্যে ৩৫টি নমুনায় চিকুনগুনিয়া রোগ ধরা পড়ে। বিশ্বে গত ৫০ বছরে চিকুনগুনিয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রার কারণে মশার বংশবিস্তার হয়েছে। গত বছর ভারতেই এই রোগে ১২ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে। এবছর পাকিস্তানেও চিকুনগুনিয়া রোগী পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, এই চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো দরকার নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, এ রোগে মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই। দলে দলে হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে গাইড লাইন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেও পাওয়া যাবে। গত বছর চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে ৩ হাজার ৭০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।  জনগণকে সচেতন করে প্রচার করা হচ্ছে। মাইকিং ও পোস্টার করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে। সভায় মেডিসিন সোসাইটির সভাপতি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিশুদের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। তবে গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হলে চিকুনগুনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর মাংসপেশীতে ব্যথা হলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আর সব ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রচুর পানি, শরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল। চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশাই এ রোগের বাহক। তাছাড়া, মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। এদিকে, আইইডিসিআর তথ্য মতে, চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত জ্বর যা আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। লক্ষণ- হঠাৎ জ্বর আসার সঙ্গে প্রচণ্ড গিঁটে গিঁটে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, চামড়ায় লালচে দানা, মাংসপেশী ব্যথা। কিভাবে ছড়ায়- প্রাথমিকভাবে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত এডিস ইজিপ্টই অথবা এডিস অ্যালবুপিক্টাস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এধরনের মশা সাধারণত দিনের বেলা  (ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার সময়) কামড়ায়। এছাড়াও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে এবং ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার সময় অসাবধানতাবশত এ রোগ ছড়াতে পারে। এই জ্বর ৩ থেকে ৭ দিন (তবে ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে)। দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সমপ্রতি রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে  বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগের প্রথমদিন থেকেই রোগীর অনেক বেশি তাপমাত্রায় জ্বর ওঠে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, জ্বর একশ’ চার-পাঁচ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা  পর্যন্ত উঠে। একই সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বিশেষ করে হাড়ের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হয়। এন্টি চিকুনগুনিয়া এন্টিবডি নামক এক ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া দুটি রোগেরই বাহক এডিস মশা। কিন্তু পার্থক্য হলো ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে আর চিকুনগুনিয়াবাহী এডিস মশা ময়লা পানিতেও জন্মে। সুতরাং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া উভয় রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বাড়ির আঙ্গিনাসহ সর্বত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সময়ে অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে চিকুনগুনিয়া রোগ বাড়ছে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি জানান, চিকুনগুনিয়া বা গ্রামের ভাষায় এ জ্বরকে ল্যাংড়া জ্বর বলে।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

নৌকায় বসেই ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

‘নতুনরা সব সময় পরিবর্তন নিয়ে আসে’

নিজ দলে বিদ্রোহ, আজ মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

ছোট্ট শিশুদের দুর্নীতির প্রশিক্ষণ

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

রাবিতে হলের সামনে থেকে ছাত্রী অপহৃত

সীমানা বিন্যাস আইন নিয়ে বিপাকে ইসি

সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথম জনসমক্ষে মুগাবে

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে