ডনাল্ড ট্রাম্প কি অভিশংসিত হবেন?

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
ওয়াশিংটনে ‘অভিশংসন’ আর দশটি শব্দের মতো নয়। খুব হালকাভাবে এ শব্দটি ব্যবহার হয় না। খবরে প্রকাশ, নিজের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশ থাকার তদন্ত দমিয়ে দিতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ সংবাদের প্রেক্ষিতেই গত দুইদিনে এই দাবি বেশ জোরেশোরে করা হচ্ছে যে,  প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করেছেন। এ নিয়ে লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশ্লেষণীতে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম প্রকাশ করা হয় যে, ট্রাম্প ক্ষমতারোহণের কয়েক সপ্তাহের মাথায় এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থামিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
জেমস কমিকে কয়েকদিন আগে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। সমালোচকদের অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে মাইকেল ফ্লিনসহ ট্রাম্প শিবিরের অনেক কর্মকর্তার কথিত যোগসাজশ নিয়ে চলা এফবিআই তদন্ত বাধাগ্রস্থ করতেই এই তদন্তের প্রধান কমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমস বোমা ফাটায় যে, কমি এফবিআই প্রধান থাকাকালে ট্রাম্প নিজ মুখে তাকে বলেছেন তদন্ত থামিয়ে দিতে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই সংক্রান্ত কথোপকথনের বিস্তারিত কমি নিয়মমাফিক নিজের ‘মেমো’তে লিখে রাখেন। ওই মেমোর ভিত্তিতেই নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদ প্রকাশ করেছে। এই সংবাদের পর আগুনে যেন ঘি পড়লো। কারণ, আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিচার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ খুবই সাংঘাতিক ব্যাপার। সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও বিল ক্লিনটন- উভয়ের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে কিনা, তা যতটা আইনি বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি করে রাজনীতির ওপর।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেট- উভয় দলের সদস্যরাই এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে এফবিআই’র রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়ার বিষয়টি ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন। ফলে যদি এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, ট্রাম্প আগে কমিকে তার উপদেষ্টা ফ্লিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত বন্ধ করতে বলেছিলেন, তাহলে এই অভিযোগ জোরালো হবে যে, তিনি কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করতে দিচ্ছেন না এবং আইন প্রয়োগ করতে দিচ্ছেন না।
এটি স্পষ্ট নয় যে, কমির প্রতি ট্রাম্পের ওই কথিত তদন্ত বন্ধের অনুরোধ তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করার ফৌজদারি অভিযোগ আনার জন্য যথেষ্ট কিনা। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, হোয়াইট হাউস ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমনকি সাধারণ ক্ষেত্রেই, আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে প্রেসিডেন্টের কোনো াঅপরাধের দরুন আদৌ তার বিচার করা যাবে কিনা।
আরও বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প যা করেছেন, তার দরুন তিনি অভিশংসিত হবেন কিনা। এটি কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। ফৌজদারি দণ্ডবিধি প্রেসিডেন্ট লঙ্ঘন করার দরকার পড়ে না। তবে মিশিগানের রিপাবলিকান নেতা জাস্টিন আমাশ বলেন, যদি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা অভিশংসনের ভিত্তি হতে পারে।
কীভাবে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে?
আগামী ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে গেলে ভিন্ন কথা। এর বাইরে একজন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ দুইটি। একটি হলো, সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী। ১৯৬৭ সালে প্রণীত নেই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যদি তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে তাকে অপসারণ করা যাবে। কিছু ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, ট্রাম্প সম্ভবত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে সুস্থ নন। কিন্তু এই প্রেক্ষিতে কাউকে অপসারণের নজির নেই। আরও বাস্তবসম্মত উপায় হলে অভিশংসন। এই প্রক্রিয়ার অধীনে, কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটি প্রথমে শুনানি শুরু করবে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করার প্রশ্নে ভোট দেবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে প্রেসিডেন্টকে অভিসংশিত করা যাবে। এরপরের পদক্ষেপ আরও কঠিন। এই বিষয়টি এরপর সিনেটে যাবে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্তভাবে অপসারণের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের ভোট প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাও প্রাসঙ্গিক। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে ১৯৯৮ সালে প্রতিনিধি পরিষদ অভিসংশিত করেছিল। কিন্তু সিনেট তাকে অপসারিত করেনি। অপরদিকে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে নিশ্চিত অভিশংসনের মুখে পড়েন নিক্সন। কিন্তু তার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। এর আগে উনিশ শতাব্দিতে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনকেও প্রতিনিধি পরিষদ অভিসংশিত করলেও সিনেটে তিনি টিকে যান।
বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
বুধবার সাবেক এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুয়েলারকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের সম্ভাব্য যোগসাজশের পুরো ঘটনা তদন্তে বিশেষ স্বাধীন কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়। রবার্ট মুয়েলার বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। তিনি অনেক স্বাধীনতা ভোগ করবেন। ডেমোক্রেটরা অনেকদিন ধরে রাশিয়া-ইস্যুতে স্বাধীন কোন তদন্তকারীকে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল। ডেমোক্রেটদের দাবির মুখে বিচার মন্ত্রণালয় নতি স্বীকার করেছে। আর স্বাভাবিকভাবেই হোয়াইট হাউস চাপে পড়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ইন্টিলিজেন্স কমিটিদ্বয় ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। কিন্তু দলীয় কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে এই কমিটি দু’টি তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। অপরদিকে এফবিআই আলাদাভাবে এই ঘটনা তদন্ত করে গেলেও, সংস্থাটির এখন কোনো পরিচালক নেই। কমিকে অকস্মাৎ হটিয়ে দেয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সাবেক এফবিআই পরিচালক মুয়েলার এই তদন্তের স্বাধীন কৌঁসুলি হিসেবে ব্যাপক স্বাধীনতা পাবেন। এই তদন্তের যেকোনো বিষয় নিয়ে তিনি ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারবেন। ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিচার বাধাগ্রস্থ করার অভিযোগও তিনি তদন্ত করতে পারবেন। তিনি এই তদন্তের ফল অনুযায়ী, যেকোনো ফৌজদারি প্রসিকিউশন বা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। কিন্তু আগেই বলা আছে, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের করা কোনো অপরাধের জন্য তার বিচার করা যাবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আর প্রেসিডেন্টকে অভিসংশিত করার যেকোনো প্রশ্নই কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কারা?
ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরাই এখন প্রতিনিধি পরিষদের দখলে। তাই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নির্ভর করবে রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দের মেজাজের ওপর। এছাড়া ট্রাম্প কেলেঙ্কারির প্রশ্নে সাধারণ ভোটারদের মনোভাব কেমন, তার উপরও রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ানের। আইনপ্রণেতাদের অনেকে দাবি করছেন, জেমস কমির ওই ‘মেমো’ সহ ট্রাম্পের সঙ্গে কমির কথোপকথনের যেকোনো রেকর্ড তাদের হাতে হস্তান্তর করা হোক। এই দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন পল রায়ান। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান শীর্ষ নেতা কেভিন ম্যাকার্থিও এই দাবিতে সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে সিনেটে, রিপাবলিকান শীর্ষ নেতা মিচ ম্যাককনেল কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র। সিনেটে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছেন সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড বার (রিপাবলিকান)। সিনেটর বারের কমিটি রাশিয়া-ইস্যু তদন্তকারী অন্যতম সংস্থা। তার কমিটি বুধবার জেমস কমিকে সাক্ষ্য দিতে ডেকেছে। দাবি করেছে, ট্রাম্পসহ হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যেকোনো কথোপকথনের নোট যাতে কমিটির হাতে হস্তান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ রিপাবলিকান সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ও তার বিপুল পরিমাণ সমর্থকদের বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে বিরত ছিল। এই সমর্থকরা শুধু ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট বানায়নি, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। ফলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ২০১৮ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে এই অভিশংসন প্রক্রিয়া এগোবে না।
কিন্তু এই কেলেঙ্কারি এড়িয়ে যাওয়া রিপাবলিকান নেতাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অরিজোনার জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন সম্প্রতি বলেছেন, ট্রাম্পের কেলেঙ্কারি ক্রমেই ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির আকার ও মাত্রা’র কাছাকাছি উপনীত হয়েছে। তার কথা থেকে অনেক রিপাবলিকান নেতার মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস যদি অভিশংসনের পথে হাঁটে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি থাকবে বেশ হতচ্ছিরি অবস্থায়। হার্ভার্ড ল’ স্কুলের সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা লরেন্স ট্রাইব বলেন, ট্রাম্পের সমর্থক লাখো ভোটার এই অভিশংসন প্রক্রিয়াকে দেখবে ট্রাম্পের প্রতি তাদের নির্বাচনী রায়কে নাকচ করে দিতে ডেমোক্রেটদের প্রচেষ্টা হিসেবে। কিন্তু অধ্যাপক ট্রাইব ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, ট্রাম্প তার শপথ ভেঙেছেন। তার ভাষ্য, ‘এ বিষয়ে এগিয়ে আসা ও নিজেদের সাংবিধানিক শপথকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়াটা মানুষের এখন নৈতিক দায়িত্ব।’

(ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের আমেরিকান অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক স্যাম ফ্লেমিং-এর ‘কুড ডনাল্ড ট্রাম্প বি ইমপিচড’- শীর্ষক নিবন্ধ অবলম্বনে লিখেছেন নাজমুল আহসান।)


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শিক্ষিকা-ছাত্রের যৌন সম্পর্ক, অতঃপর...

রাবি অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

‘সমাবেশে জোর করে লোক আনা হয়েছে’

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

নৌকায় বসেই ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

ইবিতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ-ভাংচুর

নিজ দলে বিদ্রোহ, আজ মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে

‘বিএনপিকে দূরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’