শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫
রাজধানীর শাহবাগে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেগেছে জল কামান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়েছে। ভাঙচুর করেছে কয়েকটি গাড়ি। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ সময় ধরপাকড়ও চালিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উচ্চশিক্ষাসহ চার দফা দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন গত ২৬শে এপ্রিল থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ নামে আলাদা বোর্ড গঠন, সরকারি-বেসরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষানবিশকালীন চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান। দাবিগুলো নিয়ে গতকাল তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। বেলা ১২টা পর্যন্ত সেখানে আলোচনাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেয়। তখন পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। বাধা অতিক্রম করে তারা সামনের দিকে এগুতে থাকে। মিছিলটি জাতীয় জাদুঘরের সামনে এলে আবার পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। স্লোগান দেন। রাস্তায় আগুন জ্বালান। জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা আবার পুলিশি বাধা অতিক্রম করে সামনে এগুনোর চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তােেদর উপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরাও ইটপাটকেল ছুড়েন। শিক্ষার্থীরা বাস, প্রাইভেট কারসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। শিক্ষার্থীরা আবার টিএসসি’র দিয়ে সরে যায়। পরে আবার শাহবাগের দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশকে অতিক্রম করে যেতে চাইলে জলকামান দাগা হয়। ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা। তাদের বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় পুলিশ ধরপাকড়ও চালায়। আটকৃতদের শাহবাগ থানায় নেয়া হয়। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এক নারীসহ কয়েক পুলিশসদস্য এবং বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহবাগ থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিতে না গিয়ে দলবল নিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেছিল। তাই ছাত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। তবে তাদের ইটপাকেল ও পিটুনিতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেউ আহত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো তাদের জল কামান ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়েছি। তাতে কী কেউ আহত হয়? তবে পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজনকে আহত হতে দেখা গেছে।
ম্যাটস শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল খন্দকার বলেন, আমাদের কর্মসূচি অনুযায়ী চার দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম। শাহবাগে পুলিশ বাধা দেয়। টিয়ার শেল ছোড়ে। পুলিশের লাঠি পেটায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অনেককে পুলিশ আটক করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
একাধিক ম্যাটস শিক্ষার্থী জানান, ম্যাটস থেকে ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগের কথা থাকলেও আমরা সে সুযোগ পাচ্ছি না। ম্যাটসে পড়াশুনা শেষ করার পর মেডিকেল কলেজগুলো থেকে ?উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। এছাড়া পেশাগত জায়গায় ম্যাটস শিক্ষার্থীরা যথাযথ সুযোগ পাচ্ছে না। কমিউনিটি হাসপাতালগুলোতে তাদের কাজের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও দেশের প্রায় ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে তাদের চেয়ে কম যোগ্যতার প্রার্থীদের দেয়া হচ্ছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ নাসির উদ্দিন

২০১৭-০৫-১৮ ১৭:৩২:১৪

বাংলাদেশ দু্র্নীতি ও অত্যাচারের দেশ হয়ে গেছে।

মোস্তাফিজ

২০১৭-০৫-১৮ ১৩:১৬:৩১

আরে ভাই বোনেরা ডাঃ,নার্স না হয়ে কাট মিস্তিরি হোন,মানুষ সম্মান দিবে,তথাকথিত এ ডাঃ নার্সেরা হাসপাতালের গেট বন্ধ করে আন্দোলন করে,এরা মুমাপা খোর অর্থ লোভী, এখন পর্যন্ত ডাঃ গন রোগ নির্নয়কারী মেশিন বুঝেম না,অথচ সরকার সব ধরনের সরবরাহ দিছে্ছন, সরকারকে সহযোগিতা না করে আন্দোলন করে,পুলিশ যা করছে সঠীৃক,

আপনার মতামত দিন