ফলিকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৮
সিলেটের আলোচিত পরিবহন শ্রমিক নেতা সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন যুবলীগ নেতা আশরাফ ইসলাম খান সোহেল। তিনি দাবি করেছেন- জামায়াত ও বিএনপিকে নিয়ে সেলিম আহমদ ফলিক কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় লুটপাট সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের নেতৃত্বেই সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও জুয়াড়িদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন সোহেল। এদিকে- যুবলীগ নেতা সোহেলের অভিযোগের পাল্টা জবাবে ফলিক জানিয়েছেন- টার্মিনাল ইজারা না পেয়ে ওরা পাগলের প্রলাপ বকছে। ঘটনার সূত্রপাত সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ইজারাকে কেন্দ্র করে।
গেল বছর এই টার্মিনালের ইজারাদার ছিলেন টার্মিনালের বাইরের লোক। তারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মতাদর্শের অংশ ছিলেন। অন্যদিকে সেলিম আহমদ ফলিক হচ্ছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা। আগে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ইজারা নিতেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। গেলো বার সেটি আর হয়নি। প্রায় ৪৫ লাখ টাকায় ওই ইজারা নিয়ে নেন যুবলীগ নেতারা। আরও ইজারা নিয়ে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন ফলিক আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে করে সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যুবলীগ নেতা সোহেল। সিলেট সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন- ‘শুরু থেকেই সিলেট সিটি করপোরেশনকে নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল লুটেপুটে খাচ্ছিল জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত কালাম-ফলিক সিন্ডিকেট। তাদের ইজারা আমলে বাস টার্মিনাল চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক চোরাচালানি ও জুয়াড়িদের আখড়ায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। কালাম-ফলিক সিন্ডিকেট টার্মিনালের উন্নয়নের বদলে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। গত ২০১৫-১৭ দুই অর্থবছরে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ-যুবলীগ সমর্থিতদের ইজারায় থাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পর্যাপ্ত উন্নয়ন হয়েছে। পাশপাশি পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত হয়েছিল। ইজারাদারদের অফিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবিও টাঙানো হয়। এতে করেও কালাম-ফলিক চক্র বসে থাকেনি। তারা ৯টি বাস কাউন্টারের লীজ হোল্ডার কেনা নিয়ে টাকা তুলে ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৪ই মে বাস টার্মিনালের ইজারা টেন্ডার নিয়ে কালাম ফলিক চক্রের প্রধান সেলিম আহমদ ফলিকের সঙ্গে যুবলীগ নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা হয়। এ সময় সেলিম আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ কথাবাতা করে সরকারসহ সারাদেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ফলিককে নিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে আইনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সংবাদ সম্মেলনে ইজারা টেন্ডার নিয়ে যুবলীগের বিরুদ্ধে ফলিক চক্রের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, হেল্পার থেকে একাধিক গাড়ি-বাড়িসহ জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত অঢেল সম্পত্তির মালিক সেলিম আহমদ ফলিকের দুর্নীতির তদন্ত হওয়া আবশ্যক। এদিকে- গতকাল বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক এসব অভিযোগের ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেছেন- ‘তারা যে বক্তব্য সবই হচ্ছে ভুয়া ও বেঈমানি বক্তব্য। আমি তাদের এই অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনকে আহ্বান জানাবো- তাদের অভিযোগের তদন্ত করার জন্য। যদি আমি দোষী হই শাস্তি মাথা পেতে নেবো। আর যদি নির্দোষ হই তাহলে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ তিনি বলেন- ‘ইজারা পেয়েছে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। কিন্তু তারা টার্গেট করেছে আমাকে। এটি ব্যক্তি আক্রোশের কোনো বিষয় না। হীন-স্বার্থ হাসিল করতে তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন ফলিক।’

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন