তারেক সাঈদের লে. কর্নেল পদ ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৮
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি তারেক সাঈদের নামের আগে তার সামরিক পদবি লে. কর্নেল পদ ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন ওই কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, লে. কর্নেল তারেক সাঈদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি থেকে অপসারণ করে আইনের হাতে তুলে দেয়া হয়। কিন্তু এখন যে তাকে লে. কর্নেল বলা যায় না এটা সাধারণ জনগণকে জানানো হয়নি। তিনি আরো বলেন, দেশবিরোধী কাজ করলে কাউকে শাস্তি থেকে মাফ করা হবে না। ‘আইন সবার জন্য সমান’ এ বিষয়গুলো দেশের জনগণকে ভালোভাবে জানানো উচিত ছিল। ওই বৈঠকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রসঙ্গে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৪তম বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৬ই জানুয়ারি বৈঠকটি সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে আইএসপিআর-এর পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সেনাবাহিনী থেকে যদি কেউ বরখাস্ত হন তাহলে তিনি সেনা পরিচয় বা পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি তিনি কোন ধরনের সরকারি পেনশনও পাবেন না। আবার কোনো সদস্য যদি অবসরপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি পদবি ব্যবহার করতে পারবেন। তারেক সাঈদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। তাই তার নামের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত লিখে পদবি ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি জানান, সেনা সদস্যদের পদবি ব্যবহার নিয়ে শিগগিরই চিঠির মাধ্যমে গণমাধ্যমগুলোকে জানানো হবে। অনেক সময় গণমাধ্যমে পদবি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ভুল করা হয়। এদিকে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, সংসদীয় কমিটির সব সদস্যসহ মন্ত্রণালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তারা আইএসপিআরকে দ্রুত পুনর্গঠন করে আধুনিকায়ন করার সুপারিশ করেন। বৈঠকে আইএসপিআর এর পরিচালক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যাদি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রম বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারসহ সব কার্যক্রমের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আইএসপিআর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তিনি আইএসপিআর-এর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক জনবল বৃদ্ধিকরণ, প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম ও স্থায়ী অফিস ভবনসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এর সমাধান করার জন্য কমিটির কাছে অনুরোধ জানান। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি)-এর লে. জেনারেল মো. মাহফুজুল রহমান বলেন, আইএসপিআর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনীসহ সব দপ্তর/বিভাগের মিডিয়া সংক্রান্ত কাজ করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে অফিস স্থানান্তরসহ জনবল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির স্বল্পতার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে খুবই অসুবিধা হয়। তিনি আইএসপিআর-এর স্থায়ী অফিস, জনবল নিয়োগ এবং অন্য সরঞ্জামাদিসহ পুনর্গঠন করে এর কাজের গতি বাড়ানোর অনুরোধ করেন। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, বর্তমানে দেশে মিডিয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আইএসপিআর-এর কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর হয়েছে। অন্য মিডিয়াগুলো দ্রুত প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিধায় তাদের লোকবল কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে জনবল ও অন্যান্য বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আইএসপিআর-এর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও জনবল বৃদ্ধি করার জন্য আইএসপিআর-এর পরিচালককে নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান আইএসপিআর-এর কার্যক্রম আরো গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলার অনুরোধ জানান। কমিটির অপর সদস্য ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের এমপি আনিসুল হক বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইএসপিআর-কে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে সাজাতে হবে। জনবল কমিয়ে আনার বিষয়টি বোধগম্য নয় বলে তিনি জানান। জনবলের স্বল্পতা থাকলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই তিনি মনে করেন, জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। দেশের উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্যাবলি জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আইএসপিআর ভূমিকা পালন করে থাকে। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন কাজের প্রশংসা আইএসপিআর-এর মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হলে এর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সাধন খুবই জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর অনেক আধুনিকায়ন হয়েছে। এই উন্নয়ন জনগণের মাঝে তুলে ধরার জন্য আইএসপিআর-কে আরো বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আইএসপিআর-এর উন্নয়নে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভুঁইয়া আইএসপিআর-এর ক্যামেরাম্যান, ড্রাইভারসহ অন্যান্য জনবল স্বল্পতার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আইএসপিআর-কে আধুনিকায়ন করার জন্য জনবল বৃদ্ধিসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এএফডি’র কার্যক্রম বাংলাদেশের সব জেলাতেই বিস্তৃত। অথচ আইএসপিআর-এর কার্যক্রম জনবল স্বল্পতার কারণে সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী আইএসপিআর-এর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা চিহ্নিত করে দ্রুত পুনর্গঠন করে আধুনিকায়ন করার জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে সংসদীয় কমিটির এসব সুপারিশ প্রসঙ্গে আইএসপিআর পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ  রাশিদুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবনা আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন