বগুড়ার বাজারে নকল ডিম

বাংলারজমিন

বগুড়া প্রতিনিধি | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
 খাদ্যে ভেজালের শেষ সীমা কোথায়? ভেজালে ভেজালে সব কিছু ভরে যাচ্ছে। এতদিন মুরগির ডিম নকলের কথা শোনা গেলেও বগুড়ার বাজারে মিলেছে হাঁসের নকল ডিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সিহাড়ী গ্রামের মুক্তার হোসেন পলিথিনে মুড়ে তিনটি ডিম নিয়ে প্রেস ক্লাবে হাজির। তিনি বুধবার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর বাজারের ডিম ব্যবাসয়ী চন্দ্রনাথ সাহার দোকান থেকে কয়েক ডজন ডিম ক্রয় করেন। সেই ডিম বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধ করলে তিনটি ডিম বিকৃত আকার ধারণ করে। মুক্তারের স্ত্রী প্রথমে ভেবে ছিল ডিমগুলো নষ্ট হতে পারে। পরক্ষণেই যখন ডিমের ভেতর থেকে লাল রঙ বের হয় তখন তার সন্দেহ হয় ডিমগুলো কৃত্রিম ভাবে তৈরি। মুক্তার স্থানীয় সাংবাদিক আতাউর রহমান মিলনের মাধ্যমে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আনলে ডিমগুলো ভেঙ্গে দেখা হয়। ভাঙ্গার পরে ডিমের ভেতরে লাল রঙ দেখা যায়। ডিমের ফ্লেবার থাকলেও দুগ্ধ ছিল  ডিমগুলোতে। স্বাভাবিক ডিমের কোনো বৈশিষ্ট্য ওই ডিমের মধ্যে ছিল না। মুক্তার জানায়, তার একটি পোনা মাছের খামার আছে। মাছের রেণুর জন্য প্রতিদিন তাকে কয়েক ডজন করে ডিম কিনতে হয়। সেই ডিম সিদ্ধ করে কুসুমগুলো মাছের রেণুকে খাওয়ানো হয়। বুধবারেও তিনি ডিম কিনেছেন। সেই ডিমের মধ্য থেকে ৩টি ডিম কৃত্রিম ভাবে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে চায়নার তৈরি নকল মুরগির ডিমের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ হলেও বগুড়ায় এর আগে কখনো চোখে পড়েনি। এ অঞ্চলে মুরগির ফার্ম বেশি হওয়ায় বাহির থেকে ডিমের আমদানি করতে হয় না। ফলে নকল ডিমের কোনো  খবর এর আগে কখনো পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতি ডিমের দাম বেশি এবং চাহিদা বাড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা চায়নার তৈরি নকল ডিম আমদানি  করতে পারে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ। ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার ভালো ডিমের ভেতর মিশে নকল ডিম গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছে। এদিকে নকল ডিম ভেজে খেলে বোঝার উপায় নাই। তবে সিদ্ধ করলে এই ডিম ধরা পড়ে। নকল ডিমের ভেতরের প্রায় পুরো অংশজুড়েই কুসুম থাকে।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন