শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কদর-কামাল পরিষদের ইশতেহার ঘোষণা

বাংলারজমিন

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
আগামী ২৪শে মে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী মো. কদর আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হাজী মো. কামাল হোসেন পরিষদের পক্ষে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ১৯ দফা সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটায় এক সংবাদ সম্মেলনে মো. কদর আলী এ ইশতেহার পাঠ করেন। ইশতেহার তুলে ধরে তিনি বলেন- এক. শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী সমাজের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে পুরো শহরে নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পুরো শহরের সকল এলাকা এই নাইট ভিশন ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নাইট ভিশন ক্যামেরা মনিটরিং-এ থাকবেন আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। শহরের কোনো ব্যবসায়ীর কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সিসি ক্যামেরায় রেকর্ডকৃত ফুটেজের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আবেদন জানানো হবে। দুই. সমিতির আয়-ব্যয় সকল ব্যবসায়ীদের মাঝে উন্মুক্তকরণ করা হবে। তিন. মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পন্ন শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতি প্রতিষ্ঠা করা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনে কাজ করা হবে। চার. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, সব বিষয়ে সক্ষমতা অর্জন সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাঁচ. আমদানি-রপ্তানি, শুল্ক, ভ্যাট ও নানা বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আইনি সহায়তা প্রদান করতে বিশেষ সেল গঠন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনীতির মূলধারার সঙ্গে নারীদের সম্পৃক্তকরণ করা হবে। ছয়. সমিতির কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ইনফরমেশন সেন্টার থাকবে। সেই সঙ্গে থাকবে একটি হটলাইন। যার মাধ্যমে সারা উপজেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। সাত. শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম চালুর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া স্থানীয় উপযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রীমঙ্গলকে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নেয়া হবে। আট. ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সাপোর্ট টিম গঠন করা হবে। এ টিম ভ্যাট, ট্যাক্স ও ব্যাংক লোনের সমস্যা সমাধানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে। নয়. শ্রীমঙ্গল যেহেতু একটি পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সেহেতু প্রায় প্রতিদিনই প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে শ্রীমঙ্গলে। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শহরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি বিতানের সামনে পরিবেশ বান্ধব ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হবে। দশ. শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির নামে স্থায়ী কার্যালয় করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। এগারো. সকল ব্যবসায়ীকে সার্বিক নিরাপত্তা (প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে) ও কল্যাণ সাধন করে সমিতিকে একটি গতিশীল ও কার্যকর সমিতিতে রূপান্তর করা হবে। বার. শ্রীমঙ্গলে রয়েছেন ছোট-বড় প্রায় ৫ সহস্রাধিক ব্যবসায়ী। কিন্তু বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা মাত্র ৯০৭ জন। আমরা নির্বাচিত হলে সকল ব্যবসায়ীকে সমিতির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তের. স্থানীয় কোনো ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মামলা বা অন্যায়-অবিচার হলে ওই ব্যবসায়ীকে সমিতির উদ্যোগে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। চৌদ্দ. অতীতে বিভিন্ন সময়ে শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সে সময়ে মো. কদর আলী-হাজী মো. কামাল হোসেন পরিষদের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকলেই সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীদের পাশে ছিলাম। এখনো আছি। আমরা নির্বাচিত হলে সমিতিকে আরো গতিশীল করে সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। পনের. সমিতির প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ ও শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের পরামর্শক্রমে সমিতি পরিচালনা করব। ষোল. প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা কারণে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের সমিতি থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করব। সতের. প্রতি বছরই শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন দিবসে মেলার নামে বাণিজ্যস্টল বসিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে মেলার নামে বাণিজ্যস্টল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আটারো. শ্রীমঙ্গল পৌর কর্তৃপক্ষ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পৌর এলাকার সড়কের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ফুটপাথ, ড্রেনেজ ও সড়কের উন্নয়ন, শহরে আরো অধিক স্বাস্থ্য সম্মত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হবে। উনিশ. কোনো ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করলে সমিতির উদ্যোগে প্রচার, যতদ্রুত সম্ভব শোকসভা করা হবে। সেই সঙ্গে সমিতির উদ্যোগে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে। সর্বোপরি শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতিকে একটি গতিশীল ও মডেল সমিতিতে রূপান্তর করাই  হবে এ পরিষদের মূল লক্ষ্য।



 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন