বিদেশ সফরে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এক্সক্লুসিভ

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
বিদেশ সফরে গেলে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করতে সম্প্রতি বাংলাদেশের মিশনগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বিদেশে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যদি জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন তাদেরকে অবশ্যই নজরদারিতে রাখা উচিত। প্র্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সৌদি আরব সফর নিয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। “বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিক বিদেশ গিয়ে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা যায় (বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)” মর্মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই সুপারিশের উদ্ধৃতি দিয়ে গত ১৭ই মে বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশ মিশনে জরুরি ফ্যাক্স মেসেজ পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই ফ্যাক্স বার্তায় বিদেশে ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিকরা দেশবিরোধী কোনো কাজ করছে কিনা, সেটি নজরদারিতে রাখা এবং তাদের চিহ্নিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার জন্য নির্দেশ  দেয়া হয়। কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদ করিম ওই নির্দেশনার বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নির্দেশনাটি দেখিনি, তবে দেখবো। এ সার্কুলারের মানে এই নয় যে, সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য যারাই বিদেশে যাচ্ছেন- তাদের সবার ওপরে নজর রাখা সরকারের কর্তব্য। নিয়ন্ত্রণমূলক ওই নির্দেশনা প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের তরফে ওই প্রতিবেদক 
 মন্ত্রীর প্রতি জোর দাবিও জানান। জবাবে বাংলাদেশের মতো স্বাধীন গণমাধ্যম পৃথিবীর কম  দেশেই আছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে যা খুশি তাই লেখা হচ্ছে। বিশ্বের কোনো দেশ আছে এরকম? বিদেশে গিয়ে কে কী করছে  সেটি দেখা উচিত। নির্দেশনায় শুধু সাংবাদিক কেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক না।’ ওই নজরদারির মেকানিজম কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর মেকানিজম কী হবে সেটি দেখতে হবে কী লিখেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশি সাংবাদিকদের দাওয়াত দিচ্ছি। তারা সবকিছু খোলাখুলিভাবে দেখছেন। বাংলাদেশি সাংবাদিকরাও  বিদেশে যাচ্ছেন। কাউকে বাধা দেয়া হয়নি। কাউকে বাধা দেয়া হলে আমাকে জানাবেন। পেশাগত কাজে অনেক পেশাদারই বিদেশে যান। সেখানে কেবলমাত্র সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি রাখার নির্দেশনা জারি হওয়ায় খোদ সেগুনবাগিচায়ই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সর্বজনীন ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার’ ধারণার এই যুগে সাংবাদিকদের টার্গেট করে নির্দেশনা জারি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও মনে করেন কোনো কোনো দেশীয় কূটনীতিক। তারা এও বলছেন, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয় এমন নির্দেশনা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন