আসছে পরিবেশবান্ধব নিম কোটিং ইউরিয়া সার

এক্সক্লুসিভ

দীন ইসলাম | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৫
পরিবেশবান্ধব নিম কোটিং ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। শুরুতে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে নিম কোটিং ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে। এরপর যমুনা ফার্টিলাইজারে এ ধরনের ইউরিয়া সারের উৎপাদন শুরু হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল মানবজমিনকে বলেন, নিম কোটেড ইউরিয়া সার সাধারণ ইউরিয়া সারের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি কার্যকর। এছাড়া সাধারণ ইউরিয়ার তুলনায় গড়ে ৬-১২ শতাংশ বেশি ফলন দেয়।
ফসলে রোগ-পোকা প্রতিরোধেও নিম কোটেড ইউরিয়া সারের বিশেষ গুণ রয়েছে। বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ভাষণে নিম কোটেড ইউরিয়া সার উৎপাদনে যাওয়ার কথা বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পরই গুজরাটে নিম কোটেড ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করা হয়। ওই কারখানাতেই এখন নিম কোটেড ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের নিম ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) গুজরাটের ওই কারখানার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি গুজরাটের ওই কারখানা দেখে এসেছেন সার উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েক জন। বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনএফের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে নিমের তেল সরবরাহের বিষয়ে তাদের কথা হয়েছে। তারা জানতে পেরেছে বাংলাদেশে ২৫ বছর ধরে নিম ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। নিম আয়ুর্বেদী ও ইউনানি দুটিরই অংশ। এক কেজি নিমের পাতার মূল্য ৪৫ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশে নিমভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠেনি। এ জন্য নিম ফাউন্ডেশন আগামীতে পাঁচ কোটি নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনএফ এক হিসাবে দেখেছে প্রতি বছর তারা ১০০-২০০ টন নিম তেল উৎপাদন করতে পারে। আগামীতে তারা রেললাইনের দুই পাশে নিমের চারা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এদিকে বিসিআইসি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব এ ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রাথমিক ছক তৈরি করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (উৎপাদন) শাহীন কামাল। তিনি মানবজমিনকে জানান, প্রথমে আমরা পাইলট প্রজেক্ট আকারে নিম কোটেড ইউরিয়া সার উৎপাদন করবো। এরপরই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হবে। বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউরিয়ার দানায় নিম তেল মাখানোর কারণে জমির শক্তি বাড়ছে। আগে যে জমিতে ১০  কেজি ইউরিয়া লাগতো সেই জমিতে এখন নিম কোটিং দেয়া ইউরিয়া ৬-৭ কেজি মেশালেই আগের থেকে বেশি ফলন হবে বলে আশা করা যায়। এ কারণে কৃষকের তিন-চার কেজির মূল্য সাশ্রয় হবে। এ ধরনের সার উৎপাদন হলে চোরাকারবারি হবে না। পাশাপাশি নিম কোটিং দেয়া এক গ্রাম ইউরিয়াও  কোনো রাসায়নিক কারখানার কাজে লাগে না। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ ইউরিয়া সারের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই এড়ানো যেতে পারে নিম কোটেড ইউরিয়ার প্রচলনে। নিম বীজ থেকে নিষ্কাশিত অ্যাজাডিরাকটিন সমৃদ্ধ ইমালশানের প্রলেপ ইউরিয়া দানায় সংযুক্ত করে তৈরি হওয়া নিম কোটেড ইউরিয়া মাটিতে প্রয়োগ করলে নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হয়। কারণ নাইট্রিফিকেশন ত্বরান্বিতকারী জীবাণুগুলো এতে হীনবল হয়ে পড়ে। ফলে ইউরিয়া দানা ধীরে ধীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ জিরুল ইসলাম জহির

২০১৭-০৫-১৯ ১৩:০৫:৩৪

নিম কোটেড সার ব্যবহারের উপকারিতা পড়ে খুব ভাল লাগলো। যদিও আমি খামরী না তারপরও বলছি, দীর্ঘদিন রাসায়নিক সার আমরা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করে আসছি। আমাদের স্বার্থেই পরিবর্তন দরকার। দীর্ঘদিন সম্পুর্ন রাসায়নিক ইউরিয়া সার বব্যহার করায় মাটি উর্বরা শক্তি হারিয়েছে প্রায় ৭০%। বেশি সার প্রয়োগ আর হাইব্রিট চারার কারণে এখনও কম হলেও ফসল পাচ্ছি আমরা। নিমকোটেড ইউরিয়া যদি আস্তে আস্তে আমাদের সেই পূর্বর জমি ফিরিয়ে দেয়, তবে আমরাই ১০০% উপকৃত হব। আমার দেশ, আমার মাটি আবার নতুন করে যদি আমাকে প্রাকৃতিক সেই মাটির গন্ধ ফিরিয়ে দেয়, তবে আমাদেরমত গর্বিত জাতি আর কই? অনেক অনেক শুভকামনা উদক্তা প্রতিষ্ঠনের জন্য। মিডিয়া ব্যক্তিত্বদেরও আন্তরিক শুভেচ্ছা। স্বনির্বন্ধ আবেদন জানাবো এ প্রতিষ্ঠানকে তারা যেন আমরা যারা ভুলচুক যা-ই লিখতে পারি তাদের কাছে না থেকে কৃষক/খামারী ভাইদের কাছে ছুটে যান। এ প্রত্যাশায়.....

আপনার মতামত দিন