ট্রাম্প-রাশিয়া সংযোগ তদন্তে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীদের সঙ্গে রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সমন্বয় সংক্রান্ত তদন্তে বুধবার একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ দিয়েছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। স্বাধীন এই কৌঁসুলি হলেন দীর্ঘসময় ধরে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) প্রধানের দায়িত্বে থাকা রবার্ট এস. মুয়েলার। বিচার মন্ত্রণালয় থেকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তার কাঁধে। এ খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। খবরে বলা হয়, বিচার মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেয়া হলো যে, ক্রেমলিনের সঙ্গে কোনো ‘যোগসাজশ’ না থাকার দাবিতে প্রেসিডেন্ট জোরাজুরি করলেও এই তদন্ত বেশ আক্রমণাত্মকভাবেই পরিচালনা করবেন ফেডারেল তদন্তকারীরা।
বিশেষ কাউন্সেল বা কৌঁসুলি রবার্ট এস. মুয়েলার একজন সাবেক কৌঁসুলি। তিনি ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এফবিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড জে. রোজেন্সটেইন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এই দায়িত্ব পালনে সম্মত হয়েছেন। বিচার মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে ডেমোক্রেটদের দাবির মুখে প্রশাসনের নতিস্বীকার হিসেবে। ডেমোক্রেটরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছে, যেহেতু খোদ প্রশাসনই এখানে তদন্তাধীন, সেক্ষেত্রে এই তদন্ত বিচার মন্ত্রণালয় থেকে স্বাধীনভাবে করা হোক। এমনকি বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান অর্থাৎ অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি এই তদন্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার ঘোষণা দেন। এ কারণেই তার ডেপুটি রড জে. রোজেন্সটেইন এই মামলা তত্ত্বাবধান করে আসছিলেন। গত সপ্তাহে এফবিআই পরিচালক জেমস বি. কমিকে ট্রাম্প বরখাস্ত করার পর এই বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের দাবি আরো জোরেশোরে উঠতে থাকে। এই বরখাস্তের পেছনে আবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোজেন্সটেইনের সুপারিশকে কারণ হিসেবে উত্থাপন করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে সমালোচনায় দগ্ধ রোজেন্সটেইন শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কৌঁসুলি নিয়োগের দাবিতে নতিস্বীকার করলেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই বিষয়ের দায়িত্ব একজন বিশেষ কৌঁসুলির হাতে অর্পণ করাটাই হবে জনস্বার্থের পক্ষে। আমার এ সিদ্ধান্ত নেয়ার মানে এই নয় যে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা বিচার প্রক্রিয়া শুরুর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আমি এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা হলো, সাধারণ চেইন অব কমান্ডের বাইরে কিছুমাত্রায় স্বাধীনতা পাবেন এমন একজনকে এই মামলার দায়িত্বভার দেয়াটা হবে জনস্বার্থের পক্ষে।’ তবে পরে এক ট্রাম্প নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দু’টি টুইট প্রকাশ করেন। সেখানে দৃশ্যত ক্ষুদ্ধ ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি হলো আমেরিকার ইতিহাসে কোন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে এককভাবে সবচেয়ে বড় ‘উইচ হান্ট’।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা ও (বারাক) ওবামা প্রশাসনের সময় যেসব অবৈধ কাজকর্ম হয়েছিল, সেগুলোর জন্যও কখনও বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’
নবনিযুক্ত বিশেষ কৌঁসুলি মুয়েলারকে তার সহকর্মীরা সংবাদমাধ্যমবিমুখ শৃঙ্খলাপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে চেনেন। তিনি এ নিয়োগের প্রেক্ষিতে বেশ বাহুল্যবর্জিত একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি এই দায়িত্ব পালনে আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করবো।’
অপরদিকে ট্রাম্প এই সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুধুমাত্র তা-ই নিশ্চিত করবে, যা আমরা ইতিমধ্যে জানি। সেটি হলো, আমার প্রচার শিবির ও কোনো বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো যোগসাজশ ছিল না। আমি চাই এ বিষয়টির দ্রুত নিষপত্তি হোক। আর অন্তর্বর্তীকালে, আমি জনগণ এবং যেসব ইস্যু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেসবের পক্ষে লড়াই কখনো থামাবো না।’
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে আরো বলা হয়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোজেনস্টেইন যখন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রকাশ্যে, তার মাত্র ৩০ মিনিট আগে তা হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়। এর আগে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল হোয়াইট হাউস।
স্বাধীন কৌঁসুলি নিয়োগ দেয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডেমোক্রেটরা। ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, ‘সত্য উন্মোচনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সাহস ও মেরুদণ্ড মুয়েলারের আছে।’ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান জ্যাসন শ্যাফেৎসও (রিপাবলিকান) এ সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনবদ্য ক্রিডেনশিয়াল। তাকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা উচিত।’ অবশ্য কিছু ডেমোক্রেট বলছেন, মুয়েলারের নিয়োগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একবার বরখাস্তকৃত এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে তারই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে তদন্ত থামাতে বলেছিলেন মর্মে কমি ‘মেমো’ বা নোট রেখেছিলেন, এই সংবাদ প্রকাশের একদিন পর এই বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের সিদ্ধান্ত এল। জেমস কমির সহযোগীরা বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হয়েছে। প্রতিটি কথোপকথনের বিস্তারিত নোট তিনি নিয়ে রেখেছিলেন। আইন প্রণেতারা এখন দাবি করছেন, এই মেমো এবং এফবিআই’র কাছে থাকা কমি ও ট্রাম্পের কথোপকথনের যেকোনো রেকর্ড তাদের হাতে হস্তান্তর করা হোক। উল্লেখ্য, বরখাস্ত হওয়ার আগে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের সম্ভাব্য আঁতাতের ঘটনা নিয়ে এফবিআই’র তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কমি। সমালোচকদের অভিযোগ, এই তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতেই ট্রাম্প কমিকে বরখাস্ত করেছেন।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

তবুও কুমিল্লার কাছে হারলো রংপুর

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু

‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে’

কুমারিত্বের দাম ৩ মিলিয়ন ডলার!

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরাম ৮ দিনের রিমান্ডে

১৫৪ টার্গেট গেইল-ম্যাককালামের

বাড়ি ফিরেছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়

শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ!

একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ

রাবি অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

‘সমাবেশে জোর করে লোক আনা হয়েছে’

সমাবেশ মঞ্চে শেখ হাসিনা

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে