শিবপুরের লটকন

বাংলারজমিন

মো. আনোয়ার হোসেন রতন, শিবপুর (নরসিংদী) থেকে | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এ বছর ১৬ শতক হেক্টরে লটকন চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় লটকনের ফলন এবার  কিছুটা কম হয়েছে। এরপরও গাছের ডগায় ও গোড়া পর্যন্ত ঝুলে আছে লটকন। শিবপুরের লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী। তবে গত বছরের তুলনায় এবার লটকনের ফলন কম হওয়ায় অনেক কৃষক হতাশ।
ফলন কিছুটা কম হলেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। শিবপুরের এ লটকন  নরসিংদী জেলার আশপাশের জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব ও ঢাকা থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিয়ে যায়। এ ছাড়াও লটকন দেশের বাইরে পাইকাররা বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। শিবপুরের ছোটবন্দ গ্রামের লটকন চাষি হাসান ভূঁইয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় লটকনের ফলন এবার কম হয়েছে। এরপরও বাগানের লটকন বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকারও বেশি লাভবান হওয়া যাবে বলে তিনি জানান। শিবপুরের যোশর, আগরপুর, ভিটিখৈনকুট, লালখারটেক, কামারটেক, চান্দারটেক, কুলুরটেক, শরিফপুর, নন্দিরটেক, নৌঘাটা, টঙ্গিরটেক, আমরাতলী, কাজীয়ারা, লেটাব, মাছিমনগর, মুগীবের, দেবালেরটেক, পুরানা আটশিয়া, পাহাড়ফুলদি, মৈকারচর, শ্রীরামপুর,  সৃষ্টিগড় ও চৈতন্যসহ আশপাশের এলাকার এসব লটকনের চাষ হয়ে থাকে। দেশের অন্যান্য এলাকায় লটকনের চেয়ে এখানকার লটকন অনেক সুস্বাদু। এ ছাড়াও এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ বেশি হয়ে থাকে। এ লটকন যায় সারা দেশে ও দেশের বাইরে। জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত লটকনের মৌসুম। এখানে লটকনের হাট বসে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা মরজাল বাজার বাসস্ট্যান্ড, শিবপুরের কামারটেক বাজার বাসস্ট্যান্ড, চৈতন্য বাজার ও গাবতলী বাজার। সকালে লটকনের বাজার বসে। পাইকাররা আসে ঢাকা সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। অনেক পাইকার আবার বাগান থেকে লটকন কিনে নেয়। পাইকার  নাজমুল বলেন, এখানকার লটকন অনেক সু-স্বাদু তাই এর চাহিদাও বেশি। লটকন বাগানের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, বছরের সব সময় লটকনের চারা রোপণ করা যায়, তবে আমরা বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চারা রোপণ করে থাকি। চারা আলাদা করে ক্রয় করা হয় না। গাছ থেকে পড়ে বা পাখি খেয়ে যে লটকন ফেলে দেয় এত করে চারা গজিয়ে ওঠে। সেই চারা রোপণ করি। তবে চারা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। চারা রোপণ করার চার থেকে পাঁচ বছর পর  লটকনের ফলন শুরু হয়। শিবপুরের লটকন বাগানের মালিক সিদ্দিক বলেন, একটি গাছে ১০ থেকে ১১ মন লটকন পাওয়া যায়। প্রতিমণ লটকন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
শিবপুরের সৃষ্টিগড় বড়বাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুল হাশিম বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে লটকনের চাষ করেছেন। গত বছর লটকনের প্রচুর ফলন হয়েছিল। কিন্তু এ বছর খড়া কালবৈশাখি ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে ফলন তেমন একটা ভালো হয়নি। শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল কবির বলেন, শিবপুরের লটকন দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। ফলন সব সময় এক রকম হয় না। এক বছর বেশি হলে পরের বছর ফলন কিছুটা কমে যায়।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’