ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

বাংলারজমিন

চাঁদপুর প্রতিনিধি | ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার
 দেয়াল ধসে এক অংশ পুকুরে পড়ে গেছে। আস্তর খসে পড়ছে। ফ্লোর দেবে গেছে। তবুও আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান চলছে তৈত্বশর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা আছে আতঙ্কে। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তির চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের তৈত্বশর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এতে শিক্ষক ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। আর শিক্ষার্থীরা আছে আতঙ্কে! শাহরাস্তির মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সরকারিভাবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে। সে থেকে এর পথচলা শুরু। বেশ ক’বছর ধরে ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে স্কুলটিতে। বিশেষ করে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তৈত্বশর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুমা বেগম বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে ক্লাস করছি। ভবনটির ফ্লোর দেবে গেছে, আস্তর উঠে গেছে, দেয়াল ধসে এক অংশ পুকুরে পড়ে গেছে।’ পুরো ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। ফলে শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত। তিনি আরো বলেন, এ ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। উপরে চালা (টিনশেড) থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে ক্লাস করতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। আমাদের শ্রেণিকক্ষেরও সংকট রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চ, বৈদ্যুতিক পাখা ও টয়লেট সংকট রয়েছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। শাহরাস্তির উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি বিদ্যালয়টি দেখেছি। জরাজীর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনের ঝুঁকির মধ্যেও ভালো ফলাফল অর্জন করছে শিক্ষার্থীরা। তৈত্বশর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামসুল হক বলেন, ‘তৈত্বশর, নাগবাড়িয়া ও বেততোলা গ্রামের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন। ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। বিগত ৫ বছর যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে পাঠদান।’ এ ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে দৃষ্টি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান তিনি।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন