বাংলাদেশের প্রত্যাশা

আরব আমিরাত শিগগিরই বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৩
বাংলাদেশী নতুন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। আবু ধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ বিষয়ক মন্ত্রী সাকর গোবাশের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রম কল্যাণ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম। এ খবর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনলাইন দ্য ন্যাশনাল। এতে বলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ৭ লাখ বাংলাদেশী। কিন্তু ২০১২ সালে আরব আমিরাত বাংলাদেশী নতুন শ্রমিকক নিয়োগে ভিসা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে চাকরি বদল করে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগে ভিসা দেয়া বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ভিসা নবায়নের জন্য ফি পরিশোধে বাধ্য করে শ্রমিকদের। আরব আমিরাতে পড়াশোনা করে এমন বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য কোন কাজে যোগ দেয়াও বন্ধ দেয় কোম্পানিগুলো। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রম কল্যাণ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সচিব বেগম শামসুন নাহার বলেছেন, ৫ বছর ধরে বাংলাদেশীদের ভিসা বন্ধ রাখায় আমাদের জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে বিশেষত সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরে। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীদের সঙ্গে বাংলাদেশী প্রতিনিধিদের সমঝোতামুলক আলোচনা চলছে। এরই প্রেক্ষিতে মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়োগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহার হবে। সেখানে যে নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান আছে তার অধীনে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীরা কাজ করতে পারছেন। কিন্তু নতুন কোন শ্রমিক সেখানে কাজের অনুমতি পাচ্ছেন না। মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেছেন, আলোচনায় আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। তারা শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ভিসা দেয়া শুরু করবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে শ্রমিকদের ওপর নানা অনিয়ম করে। অনেক ম্যানেজার বাংলাদেশী শ্রমিকদের তাদের ভিসা নবায়ন ফি পরিশোধে বাধ্য করে। তারা জানে যে, এসব শ্রমিকের অন্য কোথাও কাজে যোগ দেয়ার অনুমতি নেই। তাই তারা শ্রমিকদের বাধ্য করে। মন্ত্রী নূরুল ইসলাম ওই বৈঠকের পর বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এ ইস্যুটি শিগগিরই সমাধান করা হবে। সমাধান হয়ে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিতরে বাংলাদেশীরা এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে চাকরি নিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, আমিরাতের মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সেখানকার কোম্পানিগুলো আরো বাংলাদেশী শ্রমিক নিতে আগ্রহী। তবে এক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয় নি। ওদিকে শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ সরকার ৭০টি প্রশিক্ষণ সেন্টার খুলেছে। বিনা ফিতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এক মাস।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন