ষড়যন্ত্রে দলের লোকেরাও ছিল

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৯
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের ভেতরের মানুষদের চক্রান্তও দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হওয়া খন্দকার মোশ্‌তাক আহমেদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরো অনেকে এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। দিনটিকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে। দিনটিতে সকালে দলের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য যান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ।
ঘরের থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। সে সুযোগটা (তারা) করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে অনেকেই তাকে সাবধান করলেও তিনি কিছুই বিশ্বাস করেননি বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আব্বা বলতেন, ওরা তো আমার ছেলের মতো, আমাকে কে মারবে? বঙ্গবন্ধু হত্যার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুতে হয়ে পড়েন তার কন্যা। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে ছয় বছর প্রবাসী জীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরে আসে তার। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা অনেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে নিয়মিত যেত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডালিম, ডালিমের শাশুড়ি, ডালিমের বউ, ডালিমের শালী ২৪ ঘণ্টা আমাদের বাসায় পড়ে থাকতো। মেজর নূর চৌধুরীর নিজের ভাই শেখ কামালের সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করতো। তিনি বলেন, ‘খুব দূরের না। এরাই ষড়যন্ত্র করলো। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগও করেন শেখ হাসিনা। বলেন, মোশ্‌তাক প্রেসিডেন্ট হয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে। তাদের মধ্যে অবশ্যই যোগসাজশ ছিল। জিয়াউর রহমানও সপ্তাহে একদিন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে যেতেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দুয়ার সবার জন্য অবারিত ছিল, যার সুযোগ ষড়যন্ত্রকারীরা নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন শেখ হাসিনা ছিলেন বেলজিয়ামে। সেখানেই তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম, তখন সহ্য করাটা কঠিন ছিল। বেলজিয়াম থেকে জার্মানি হয়ে ভারতে আসেন শেখ হাসিনা। এই স্মৃতি বলতে গিয়ে আবার কাঁদতে থাকেন তিনি। বলেন, ভাবলাম দেশের কাছে যাই। কখনও শুনি, মা বেঁচে আছে। কখনও শুনি, রাসেল বেঁচে আছে। একেক সময় একেক খবর পেতাম। ওই আশা নিয়ে চলে আসলাম। কেউ বেঁচে থাকলে ঠিক পাবো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নয় দিন পর দিল্লিতে পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে পরিবারের সবার হত্যার কথা প্রথম জানতে পারেন বলে জানান শেখ হাসিনা। ভারতে থাকার সময় ১৯৭৭ সালে শেখ রেহানার বিয়ে হয় লন্ডনে। কিন্তু টাকার অভাবে সেখানে যেতে পারেননি শেখ হাসিনা। তিন বছর পর রেহানার বাচ্চা হওয়ার সময় ইন্দিরা গান্ধী তাকে লন্ডনে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা ভারতে থাকার সময়ই তাকে আওয়ামী লীগ দলীয় সভাপতি নির্বাচিত করে। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দলের দায়িত্ব গ্রহণ সহজ কাজ ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, এত বড় সংগঠন করার অভিজ্ঞতাও আমার ছিল না। আমার চলার পথ অত সহজ ছিল না। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, “আমার মাঝে মধ্যে মনে হয়, আব্বা যখন দেখেছেন, তাকে গুলি করছে, তারই দেশের লোক, তার হাতে গড়া সেনাবাহিনীর সদস্য, তার হাতে গড়া মানুষ... জানি না তার মনে কী প্রশ্ন জেগেছিল? দল এবং দলের বাইরে নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা বহাল তবিয়তে বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত। স্বাধীনতার বিরোধীরা তখন বহাল তবিয়তে। তারাই ক্ষমতার মালিক। যে পরিবারকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলো, সে পরিবারের একজন এসে রাজনীতি করবে। সেটা এত সহজ ছিল না, প্রতি পদে পদে প্রতিবন্ধকতা ছিল। বক্তব্যের এই পর্যায়ে উপস্থিত নেতাদের আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব খুঁজতে বলেন শেখ হাসিনা। তবে সবাই সমস্বরে ‘না না’ বলে ওঠেন। শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নেতৃত্ব খোঁজা দরকার। জীবন-মৃত্যু আমি পরোয়া করি না। মৃত্যুকে আমি সামনে থেকে দেখেছি। আমি ভয় পাইনি। আমি বিশ্বাস করি, আমার আব্বা ছায়ার মতো আমাকে দেখে রাখেন... আর, উপরে আল্লাহর ছায়া আমি পাই।
এদিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে আসেন। সারা দেশের লাখো মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় আসেন, ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সকালে গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শোভাযাত্রা বের করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আশেপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ফারুক, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি লায়ন গনি মিয়া বাবুলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কবি কাজী রোজী এমপি, ভাষা সৈনিক শামসুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

বাবুল চৌধুরী এইচএম

২০১৭-০৫-১৮ ০৩:৪৫:০৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার হত্যাকান্ডে বাঙ্গালী জাতিসহ সারা বিশ্বের নির্যাতিত নিপিড়িত জনতা হারিয়েছে তাদের মুক্তিদুত, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আপনার নিরলস প্রচেষ্টা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। দেশরত্ন শেখ হাসিনা এগিয়ে চলুন আমরা আপনার সাথে আছি।

মোস্তাফিজ

২০১৭-০৫-১৭ ২১:৩২:১১

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যখনি আপনার কষ্টের কথা শুনতে পাই,আপনি আমাদের মা,আমরা ও অনেক কষ্ট পাই,আজ বাংলাদেশ আপনাকে নিয়ে গর্বীত,বাংলাদেশ এগিয়ে যাছে্ছ এবং বিশ্ব আমাদেরকে মূল্যায়ন করছে ।

kamal

২০১৭-০৫-১৭ ১১:০৮:০০

১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা পর ক্ষমতায় ছিল তারই সরকারের অর্থমন্ত্রী ও বাকশালের কার্যকরী কমিটির ১৫ সদস্যের ৪ নম্বর সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ । তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র,আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেন । কতিপয় সেনা সদস্যদের হাতে শেখ মুজিব হত্যার পর মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। আশ্চর্য্যজনক বিষয় হল শেখ মুজিবের রক্তাক্ত লাশ সিঁড়িতে রেখেই তার দীর্ঘকালের ঘনিষ্ঠ সহচররা খন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন । শেখ মুজিবের হত্যার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তারই ঘনিষ্ঠ সহচরদের মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা খন্দকার মোশতাক সরকারের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

আপনার মতামত দিন

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা