শুল্ক গোয়েন্দায় দিলদার, সময় পেলো রেইনট্রি

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৫
জব্দ করা প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্সের মালিক পক্ষ। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ডার্টিমানি ও চোরাচালানের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড. মইনুল খান। বনানীর আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদকে তলবের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। মইনুল খান বলেন, এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ সরবরাহের কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ। তারা বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য সময় চেয়েছেন। আমরা সময় দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে এক কেজিরও বৈধ কাগজ তারা দেখাতে পারেনি। বৈধ কাগজ না দেখানো মানে আমাদের অনুসন্ধান ও তথ্য সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অর্থাৎ ডার্টিমানি ও চোরাচালানের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বৈধ কাগেজ দেখাতে তাদের আগামী ২৩শে মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে বলেও জানান ডিজি। তবে দিলদার আহমেদ শুল্ক ও  গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ৪০ বছর ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। কোনো অবৈধ জিনিস আমাদের দোকানে নেই। বলেন, শুল্ক গোয়েন্দাদের অধিকার রয়েছে আমাদের দোকান সার্চ করার। তারা আমাদের স্বর্ণ ও ডায়মন্ড জব্দ করেছে। আমরা পেপার্স শো করব। সময় নিয়েছি। এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে অবৈধভাবে মদ রাখার অভিযোগে একই ঘটনায় আলোচিত রেইনট্রি হোটেলের মালিকদেরও তলব করা হয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণে অপরাগতার কথা জানিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক বিভাগ আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়।
জানা যায়, গত ১৪ ও ১৫ই মে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ার শাখায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ থাকার দায়ে সাময়িকভাবে জব্দ করে। মূল্যবান এসব সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে ওই সময় কোনো ধরনের বৈধ দলিলাদি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ দেখাতে না পারায় এবং প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাই করে এগুলোর আমদানি ও ক্রয়ের উৎস নিয়ে গোয়েন্দাদের সন্দেহ হলে সাময়িকভাবে জব্দ করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়। এ ব্যাপারে গতকাল বেলা ১১টায় শুল্ক গোয়েন্দার কাকরাইলের কার্যালয়ে আপন জয়েলার্সের মালিকদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ এসব স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের পরিমাণ জানাতে সমন জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিষ্ঠানের ৩ জন মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ এবং আজাদ আহমেদ শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে হাজির হয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আপন জুয়েলার্সের প্রতিটি শাখায় রিপেয়ারিং এবং এক্সচেঞ্জের জন্য যেসব গ্রাহক তাদের স্বর্ণ এবং অন্যান্য মূল্যবান অলংকার অক্ষত অবস্থায় গচ্ছিত রেখেছিলেন তাদের আগামী সোমবার (২২শে মে) বেলা ২টায় সংশ্লিষ্ট শাখায় রসিদসহ হাজির হলে অক্ষত অবস্থায় সেগুলো ফেরত দেবে। এ বিষয়ে জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ তাদের গ্রাহকদের জানিয়ে দেবেন। অপরদিকে সিলগালা করা দোকানে থাকা রেজিস্ট্রার এবং শুল্ক গোয়েন্দার জব্দ করা কপি সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করেছে মালিকরা। তাদের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব দলিলাদি আজ বেলা ২টায় সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার বেলা ২টায় মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যাপারে শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এদিকে, বনানীর চার তারকা হোটেল রেইনটিতে গত ১৪ই মে চালানো অভিযানে একটি কক্ষ থেকে অবৈধ মদ উদ্ধারের ব্যাপারে হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে ১ মাস সময় চান। এতে অসুস্থতার কারণে শুনানির বিষয়ে উপস্থিতিতে অপারগতার কথা উল্লেখ করা। তবে এর স্বপক্ষে কোনো চিকিৎসা সনদ দাখিল করা হয়নি। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও আগামী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য পুনরায় নোটিশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে বলেও শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন