জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও আদালত বদল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আদালত বদলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলার বিচারিক দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানকে দায়িত্ব দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন মঞ্জুর করে গতকাল এ আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদেশে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলার বিচারিক দায়িত্ব পালন করছিলেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় গত বছরের ১লা ডিসেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন করে অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন খালেদা জিয়া। খালেদার আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও বিচারিক দায়িত্বও পালন করবেন ড. মো. আখতারুজ্জামান। গতকাল আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে জাকির হোসেন ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, যেহেতু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ ওই বিচারকের (ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান) আদালতে হবে, তাই এই মামলার (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) বিচারকাজও ওই আদালতে স্থানান্তরের জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালত আগামী ৬০ কার্যদিবসে এ মামলার বিচারকাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায়। পরে খালেদা জিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশের বিচারের দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারকে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়াও আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব ও  বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ই  জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে  অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে আসামিদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল  ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন