চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে শাবি ছাত্রকে হত্যা!

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া গুরুতর আহত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তাকিন রাজ্জাক গতকাল সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এর আগে তাকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কায়স্থগ্রাম এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। রাজ্জাকের পিতা-মাতা সিলেটের গাইনি ডাক্তার দম্পতি। গত মঙ্গলবার সকালে মামুন সিলেটের পুরাতন মেডিকেল কলোনি থেকে বের হয়ে যায়। রাতে সে বাসায় ফিরেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কী না সে ব্যাপারে পুলিশ কিছুই জানাতে পারেনি।
তবে তার পকেটে থাকা সিলেট-কুলাউড়া রেল টিকিট পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে- তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনার পর পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান- সকাল ৭টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ ও মাইজগাঁওয়ের মধ্যবর্তী কায়স্থগ্রামের পাশে রাজ্জাকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। সংজ্ঞা ছিল না। এ সময় তারা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজ্জাক মারা যায়। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়। পাশাপাশি তার মাথার পিছনের অংশ দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরছিল। অধিক রক্ত ক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছেন তারা। মোস্তাকিন রাজ্জাক শাবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক সিলেট নগরীর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নর্থ ইস্টের চিকিৎসক ও তার মা হুসনে আরা বেগম কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের পাগলা এলাকায়। রাজ্জাক সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় মেডিকেল কলোনির ৫ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাবা-মা’র সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। রাতে বাসায় না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজ করা হয়। তার ফোনও বন্ধ ছিল। তাকে কেউ ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছে বলেও দাবি করছেন তারা। সিলেট রেলওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সকালে ফেঞ্চুগঞ্জের রেল লাইনের পাশের ডোবা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, রাজ্জাক ট্রেন থেকে পড়ে গেছে, না কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে- মামুরের কাছে গত মঙ্গলবারের ট্রেনের টিকিট ছিল। সে কী কারণে কুলাউড়া যাতায়াত করছিল সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় পুলিশ। সিলেটের এডিশনাল এসপি (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানিয়েছেন- ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ায় রাজ্জাক মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে। তার সহপাঠীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামুর প্রথমে ২০১০-১১ সেশনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়। পরবর্তী সময়ে একবছর ড্রপ দিয়ে আবার ২০১১-১২ সেশনে পুনঃভর্তি হয়। কিন্তু পরে তিনি এক বছরের মতো ক্লাস করে আর নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে নি।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

নৌকায় বসেই ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

‘নতুনরা সব সময় পরিবর্তন নিয়ে আসে’

নিজ দলে বিদ্রোহ, আজ মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

ছোট্ট শিশুদের দুর্নীতির প্রশিক্ষণ

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

রাবিতে হলের সামনে থেকে ছাত্রী অপহৃত

সীমানা বিন্যাস আইন নিয়ে বিপাকে ইসি

সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথম জনসমক্ষে মুগাবে

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে