শাহী ইমামের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত বরকতিকে

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কলকাতার ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বিতর্কিত  নূর রহমান বরকতিকে। বুধবার ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান আরিফ আহমেদ বরখাস্তের কথা ঘোষণা করেছেন। সাত দিনের মধ্যে তাকে অফিস ঘর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড। বরকতিকে অপসারণের নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি তাঁর সামপ্রতিক একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য এবং কাজকর্মের জন্য জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। দেশবিরোধী ও দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বরকতির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগও দায়ের হয়েছে। বরকতির  বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের পাশাপাশি মসজিদের কর্মীদের পেটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নানাবিধ কাজকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়। তবে উত্তর দেননি বরকতি। যে কারণে তাঁকে ইমাম পদ থেকে সরানো হয়েছে। তবে বরকতি কোনো আইনি পদক্ষেপ করলে মসজিদ কমিটিও আইনি পথে হাঁটবে বলে পরিষ্কার করে দিয়েছেন আরিফ আহমেদ। আপাতত নতুন কোনো ইমাম নিয়োগ করা হচ্ছে না। মোয়াজ্জেমই নামাজ পড়াবেন। ১৯৮৮ সালের  পয়লা ডিসেম্বর থেকে ইমাম হিসাবে টিপু সুলতান মসজিদে কাজ শুরু করেছিলেন বরকতি। প্রায় ৩০ বছর ধরে টিপু সুলতান মসজিদের কর্তৃত্ব ছিল বরকতির হাতে মুসলিম সমাজে ও রাজ্য রাজনীতিতেও তাঁর প্রভাব ছিল অপরিসীম। বিশেষত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের কাছে তাঁর মান্যতা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। মমতার সঙ্গে বহু রাজনৈতিক সভাতেও দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু সামপ্রতিক কিছু ঘটনার নিরিখে নিজেকে বিতর্কিত করে তুলেছিলেন তিনি। সরকার লালবাতি নিষিদ্ধ করলেও বরকতি তা খুলতে অস্বীকার করেছিলেন। লালবাতি ইস্যুতে ধর্মীয় বিভেদ উসকে তিনি বলেছিলেন, ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইলে, মুসলিমরাও পাকিস্তান চাইবে, এহেন মন্তব্যের পরেই ইমামের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুসলিম সমাজের একাংশ।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন