সুপার লীগে আবাহনী, শঙ্কায় রূপগঞ্জ

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
সুপার লীগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু আবাহনীর বিপক্ষে গতকাল বিকেএসপি-৪ মাঠে ৪৯ রানে হেরে শঙ্কাতেই পড়েছে দলটি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে এখনও তারা ৭ম স্থানে। শেষ ম্যাচে জিতলেও তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে ওপরে থাকা দলগুলোর জটিল সমীকরণের দিকে। অন্যদিকে ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সুপার লীগ নিশ্চিত করেছে আবাহনী। গতকালের ম্যাচের লড়াই বেশ জমিয়ে তুলেছিলেন দুই দলের দুই ব্যাটসম্যান। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শিরোপাধারী আবাহনীর ওপেনার লিটন কুমার দাস ও সাদমান ইমলাম অনিক দারুণ শুরু করেন। আসরে লিটনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে চতুর্থবারের মতো আবাহনীর স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে তিন শ’ ছাড়ানো ইনিংস। সবকটি উইকেট হারিয়ে লীগের চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩৩৩ রান করে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। জবাব দিতে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে ফের জ্বলে ওঠেন নাঈম ইসলাম। তিনিও হাঁকান লীগে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে তার ১২৩ রানের ইনিংসটি দলের জয়ের আশা দেখালেও শেষ হাসি ছিল ১৩৬ রানের ইনিংস খেলা লিটনেরই। ম্যাচ সেরাও তিনি। নাঈম আউট হলে রূপগঞ্জকে আর কেউ জয়ের পথ দেখাতে পারেননি।
এক ম্যাচের ব্যবধানে আরো একটি ঝড়ো সেঞ্চুরি করেছেন লিটন। ব্যাট হাতে ৩৮ বলে ফিফটি করেন তিনি, এরপর ৭৮ বলে সেঞ্চুরিও। এক ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরি করেছিলেন ৭৯ বলে। আরেক পাশে সাদমান খেলছিলেন সমান তালে। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৩ বলে ৮৫ রানে সাদমানের বিদায়ে ভাঙে জুটি। দুজনে তুলে ফেলেছেন ততক্ষণে ১৭১ বলে ২০৭ রান। চলতি আসরে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। তবে ওপেনিং জুটিতে এটিই শীর্ষে। লীগে তৃতীয় করা উইকেটে সর্বোচ্চ ২২৫ রানের জুটির মালিক অবশ্য রূপগঞ্জের মুশফিকুর রহীম ও নাঈম ইসলামে। ১০১ বলে ১৩৬ রান করেন লিটন। ২০ চারের সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছক্কা। লীগে ৯ ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরি তিন ফিফটিতে তার সংগ্রহ সর্বোচ্চ ৫৭৮ রান। দুই ওপেনারের পর সেভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। শেষ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে অলআউটও হয়ে যায় আবাহনী। তবে শেষ দিকে ১৭ বলে ২৩ করেন শুভাগত হোম চৌধুরী।
জবাব দিতে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় ছিটকে পড়ে রূপগঞ্জ। ৮ ওভারের মধ্যেই রূপগঞ্জ হারায় ৩ উইকেট। বিশাল রান তাড়া অসম্ভব হয়ে যায় তখনই। তবে নাঈমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত তুলতে পারে তারা ২৮৪। অধিনাক নাঈম স্পিনার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে করেন ১০১ রান। ইনিংস মেরামত করার সেই জুটি আসে ১২৯ বলে। হামিদুল ইসলামের সঙ্গে পরের জুটিতে ১০০ করেন ৭৫ বলে। ৯৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাঈম। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি নাঈমের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ১২৩। সেই সুবাদে ৯ ম্যাচে ৪৯১ রান করে লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিকও এখন নাঈম ইসলাম।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন