৫ মেধাবীর দারিদ্র্য জয়ের গল্প

এক্সক্লুসিভ

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা থেকে | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৪
রিবা, শুভ, সুমাইয়া, ইমদাদুল ও অপি এরা পাবনার গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের ৫ মেধাবী শিক্ষার্থী। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেকেই দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে ভালো ফলাফল করলেও কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে আছে দুশ্চিন্তায়। এরা কেউ ডাক্তার, আবার কেউবা প্রকৌশলী, কারো আবার শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এখন শুধু প্রয়োজন সকলের সাহায্য সহযোগিতা। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে এরা প্রত্যেকেই অসহায় মানুষের সেবা করবে বলে জানিয়েছে।
রিবা খাতুন: জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
সে আতাইকুলা থানার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের তৈলকুপি গ্রামের দিনমজুর মো. করিম খন্দকার ও শোভা খন্দকারের মেয়ে। আতাইকুলা ফাতেমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।  সে পিএসসি, জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল।  
তৈলকুপি গ্রামের দিনমজুর পিতা মো. করিম খন্দকারের তিন সন্তানের মধ্যে রিবা দ্বিতীয়। সে অতি কষ্টে সবার সহযোগিতায় লেখাপড়া করে এ সাফল্য অর্জন করেছে। করিম খন্দকার জানান, তার মাত্র ৪ শতাংশ বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি-জিরাত নেই। দিন মজুরি দিয়ে ৩ ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয় বলে মেধাবী রিবা খাতুনের উচ্চশিক্ষার আশা ভেস্তে যেতে বসেছে। অর্থাভাবে মেধাবী ছাত্রীর মুখ থুবড়ে পড়ছে। মেধাবী রিবা খাতুনের আশাআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। রিবা খাতুন উচ্চশিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত হতে চায়।
সাখাওয়াত শুভ: পাবনার সুজানগর উপজেলার বজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলে সাখাওয়াত শুভ। পিতা ১০ বছর আগেই মারা যান। মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে। অর্ধহারে অনাহারে কেটেছে অনেক রাত। তার পরেও থেমে থাকেনি শুভ। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেনি। তার পরেও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সাখাওয়াত শুভ। এখন সে একটি ভালো কলেজে পড়তে চায় । কিন্তু কলেজে পড়তে যে টাকার প্রয়োজন তা শুভর মায়ের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। তার চোখে মুখে এখন শুধুই হতাশা লেখাপড়া আদৌ চালিয়ে যেতে পারবে কিনা। পড়ালেখার সুযোগ পেলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে শুভ।
সুমাইয়া সুলতানা: পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
চরগোবিন্দপুর গ্রামের ভূমিহীন পরিবারে অভাবের সংসারে কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সে। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেনি তার পরেও ভাল ফলাফল করে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে সুমাইয়া ও তার পরিবার। সুমাইয়ার বাবা হুমায়ুন কবির পেশায় পোশাক শ্রমিক। এখন আর লেখাপড়ার খরচ চালানো অম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা। ভাল ফলাফল করেও লেখাপড়া নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছে সুমাইয়া ও তার পরিবার। সুমাইয়া ডাক্তার হয়ে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করতে চায়। তার সেই ইচ্ছা পূরণে এখন প্রয়োজন সহযোগিতা।
ইমদাদুল হক মিলন: পাবনার সুজানগর উপজেলার বজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে জানে না তার বাবা কোথায়? তাদের রেখে পিতা লাপাত্তা। মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। ৪ সদস্যের পরিবার। দু’বেলা ঠিকমতো আহার না জুটলেও থেমে থাকেনি সে। ছোট থেকেই অতি কষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ+) পেয়ে সকলের নজর কেড়েছে। পরীক্ষায় সাফল্য এলেও এখন তার চোখেমুখে শুধুই হতাশা। একটি ভালো কলেজে পড়তে চায় সে। কিন্তু ভালো কলেজে পড়তে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। ইমদাদুলের মায়ের পক্ষে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। বাবা লাপাত্তার পর থেকে দুই বোনের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তার ভয় লেখাপড়াটা শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় কিনা।   
আশিকুল ইসলাম অপি
পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
দুলাই গ্রামের দিনমজুর হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আশিকুল ইসলাম অপি জিপিএ-৫ পেলেও এখন কলেজে ভর্তি হওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। বড়বোন হ্যাপীর কলেজে লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে দিশাহার অপির পরিবার। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় তার বাবা-মা। ভূমিহীন পরিবারের ছেলে অপি ভাড়া বাসায় থাকে। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া চালাতে গিয়ে অনাহারেও কেটেছে অপিদের অনেক রাত। তারপরেও থেমে থাকেনি অপির লেখাপড়া। পরীক্ষার ফলাফল শুনে দু-একদিন বেশ আনন্দে থাকলেও এখন তার চোখে-মুখে শুধুই হতাশা। লেখাপড়ার সুযোগ পেলে অপি ডাক্তার হয়ে দরিদ্র মানুষের সেবা করতে চায়। পাবনার এই ৫ মেধাবী শিক্ষার্থী সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে দেশের বড় সম্পদ হতে পারে। এব্যাপারে পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, গরিব মেধাবীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সরকার সম্ভাব্য সহায়তা করবে। তবে এর বাইরে তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রকৃত দরিদ্র মেধাবীদের সহায়তা করার আহ্বান জানান।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার নির্দেশ

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

‘অনুমোদনহীন বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

কি পেলাম কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...