বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন পাথর কোয়ারির ব্যবসায়ীরা

এক্সক্লুসিভ

মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০০
সাবেক সেনাসদস্য মোশারফ হোসেন, মহর আলী মেম্বার, সিদ্দিক মিয়া, আবদুল আজিজ, আল-আমিন, রবি খাঁ, সাইদুর। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস। জাফলং পাথর কোয়ারিতে চলছে বোমা মেশিন। আইনসিদ্ধ নয় তাই প্রশাসনিক ঝক্কি-ঝামেলায় বার বার বন্ধ হচ্ছে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন। এমতাবস্থায় বিশাল লোকসানের মুখোমুখি বোমা মেশিনে বিনিয়োগকারী এসব ব্যবসায়ী। তারা পড়েন বিপাকে।
এরইমধ্যে সাবেক সেনাসদস্য মোশারফ হোসেন অপরাপরদের সঙ্গে নিয়ে হঠাৎ বোমা মেশিনের বিকল্প আয় রোজগারের পথ খোঁজেন। ব্যবসায়িক অংশীদারকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন একটি দুগ্ধ ও মৎস্য খামার গড়ার। যেই পরিকল্পনা সেই কাজ। নিভৃত পল্লী উপজেলার ৩নং পূর্বজাফলং ইউনিয়নের নয়াগাঙ্গেরপার নিজ গ্রামে প্রাথমিক ৫০ লাখ টাকার পুঁজি নিয়ে ওই বছরই নভেম্বর মাসে পুরোদমে তারা তাদের খামারের কার্যক্রম শুরু করেন। সরজমিনে পরিদর্শনে খামারটি উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা চিত্র ফুটে ওঠে। জানা যায়, তাদের এই দুগ্ধ ও মাছের খামার তৈরির জন্য তারা প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৪টি দুগ্ধ গাভী দিয়ে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলেন। প্রথমে ১টি পুকুর দিয়ে উৎপাদনে গেলেও তারা এখন আরো ৪টি পুকুর নিয়ে মাছ চাষের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বর্তমানে তাদের খামারে ১২টি দুগ্ধগাভী, ১৯টি ষাঁড় ১১টি বাছুর রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে দুগ্ধ ও মৎস্য খামার, পোলট্রি খামারের শেড ও নার্সারি করারও। তাদের এ প্রকল্প সার্র্বক্ষণিক খামারের কার্যক্রম পরিচালনা ও দেখভালের জন্য ৯ জন কর্মরত রয়েছেন। খামারের ১২টি গাভী থেকে বর্তমানে ৯০-১১০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। পুকুরগুলোতে মনোসেক্স তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুটিসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। খামারের গাভীদের খড়, ভুসি,  খৈল খাওয়ানো হয়।  ইতিপূর্বে দুগ্ধ খামার থেকে ৫ লাখ টাকা এসেছে। আলাপকালে উদ্যোক্তারা জানান, তাদের এ খামারের নাম দেয়া হয়েছে আমানত শাহ দুগ্ধ ও মৎস্য খামার। আর এই প্রতিষ্ঠানটি তারা গড়ে তোলেন কোয়ারির বোমা মেশিনের বিকল্প হিসেবে। শুধু তাদের নয় গোটা জাফলংয়ে এলাকার পাথর ব্যবসার বিকল্প প্রথম কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্তও হতে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। দেখা যায় তাদের এখানে ৯ জন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রকল্প প্রসারিত হওয়া পর আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে জানান তারা। সরজমিন দেখা যায়, প্রকল্পটির অন্যতম উদ্যোক্তা সাবেক সেনাসদস্য মোশারফ হোসেনকেও। তিনি জানান, আমি একজন সাবেক সেনাসদস্য। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর এলাকায় এসে প্রথমে বেকার ছিলাম। পরে জড়িয়ে পড়ি বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন ব্যবসায়। এ খাতে লাভের আশায় বিনিয়োগ করে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখোমুখি হই। শুধু আমি নই, আমার সঙ্গের অপর অংশীদাররাও লোকসানের মুখোমুখি হন। সবাইকে সঙ্গে রেখে এ থেকে উত্তরণ ও বিকল্প কোনো ব্যবসা করা যায় কিনা চিন্তা করলাম। ভাবলাম অভিশপ্ত বোমা মেশিনকে বাদ দিয়ে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে লাভবান হওয়া যায় কিনা। নিজে থেকেই উদ্যোগ নিই একটি গবাদিপশু বা দুগ্ধ খামার করার। সঙ্গের বোমা মেশিনের অংশীদারদের এ ব্যবসায় জড়ানোর আহ্বান জানালে তাদের মধ্যে সিংহভাগই কেটে পড়েন। বোমা মেশিনের দুজন অংশীদার ছাড়া সবাই আমাকে বিদায় জানান। বোমা মেশিনের অংশীদার দুজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের এক বড় ভাইসহ অপর আরও ৩ জনকে নিয়ে পরিকল্পনা করি এই দুগ্ধ ও মৎস্য খামার গড়ে তোলার। তাদের সমন্বয়ে দুগ্ধগাভী গাভীক্রয়, পোনা পুকুরে ছাড়াসহ প্রাথমিক ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। নিজ বাড়িতে গরুর খামার ও আশপাশে পুকুর নিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। গরুর খাবারের জন্য ঘাস ক্ষেত করার জন্যও আলাদা জমি রাখি। এরই ধারাবহিকতায় এখনো আমাদের খামারে বিনিয়িোগ চলছে। আমরা চাই সবুজ শ্যামল জাফলং। ভবিষ্যতে আর কখনো বোমা মেশিন বা পরিবেশের বিপর্যয় হয় এমন পেশায় জড়াব না। অপর অংশীদার ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য মহর আলী মেম্বার জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমার ১০ বিঘা জমি রেখেছি মৎস্য খামার করার জন্য। কিন্তু কোনো সহযোগী না পাওয়ায় এ প্রকল্প শুরু করেেত পারিনি। এই প্রকল্পর অন্যতম সদস্য মোশারফ হোসেনসহ তাদের সঙ্গে এ খামারে জড়িয়ে আমি লাভবান হতে পারবো বলে আশাবদী। এটি আমার একটি স্বপ্নের বাস্তবায়নও। আমরা এখানে ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখছি। নয়াগাঙ্গের পাড় গ্রামের বাসিন্দা পূর্ব জাফলংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুল হক ভূঁইয়া বাবুল জানান, অজপাড়াগায়ে লাভজনক এমন মহতি ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ সত্যি অবাক করা। এ থেকে এলাকার যুবসমাজ বেকারত্ব গোছানোর পথ অনুসরণ করতে পারবে। আমি তাদের এ প্রকল্পর সফলতা কামনা করি। সাহেব আলী নামের অপর একজন বাসিন্দা জানান, আমানত শাহ দুগ্ধ খামার দেখে এলাকার অনেকে এরকম বিকল্প কর্মসংস্থানে জড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন, সর্বোপুরি এই প্রকল্প এলাকার বেকারত্ব গোছানোর একটি রুল মডেলও হতে পারে। এ ব্যাপারে কথা হলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাহ উদ্দিন জানান, গ্রামের সচ্ছলদের নিয়ে এরখম একটি উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এ থেকে বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উপকারভোগী হবেন স্থানীয় বেকাররাও। আমি অচিরেই এ প্রকল্প সরজমিন ঘুরে আসবো, সরকারের তরফে তাদের কোনো সহযোগিতা লাগলে সহযোগিতা করবো।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

biplob

২০১৭-০৫-১৭ ১৩:৪০:০৪

Very good news

আপনার মতামত দিন

বৃদ্ধা মিলু গোমেজ হত্যায় কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের আবেদন

বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ

চবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক

‘নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

মালিবাগে গুদামে আগুন

ওয়ালটনে প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

সাবেক প্রক্টর কারাগারে, প্রতিবাদে অবরুদ্ধ চবি

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল