ডোমারে বিরল এএফপি রোগী শনাক্ত

বাংলারজমিন

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি | ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
নীলফামারীর ডোমারে জহুরা আক্তার (৯) নামে এক শিশু বিরল এএফপি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এ রোগটি ছড়িয়ে পরতে পারে। জহুরা ডোমার পৌরসভার পূর্ব-চিকনমাটি ৯ নং ওয়ার্ডের রিকশাচালক ইদ্রিস আলীর মেয়ে ও জলপাখুরি প্রতিবন্দ্বী স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। রোগটি ছোঁয়াচে এবং সকলের দেহে প্রবেশ করতে পারে এই গুজব এলাকায় ছরিয়ে পরায় ঐ গ্রামের কোন মানুষ আর তাদের সাথে মিশছে না। রোগটি যাতে ছড়িয়ে পরতে না পারে সেজন্য ওই বাড়ির চতুর্দিকে ৫ বছরের নিচে দুইশ’ শিশুদের ১৬ মে পোলিও খাওয়ানো হয়। আক্রান্ত রোগীর মল গত ১১ই মে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
১৫ বছরের কমবয়সী যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। হঠাৎ অতিদ্রুত আক্রান্তস্থান থলথলে ও অবস হয়ে যাওয়া এই রোগের লক্ষণ। এএফপি রোগে আক্রান্ত শিশুর হাত ও পা চিকন হয়ে যায়।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল জানান, ৩রা মে এলাকায় পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকর্মী পুলক এই রোগীর সন্ধান পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে ৬ই মে এসএমও ডা. মৃদুল ওই রোগীর বাীিতে যান এবং পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা বলে এই রোগ সমন্ধে অবহিত করেন। প্রায় একবছর আগে শিশু জহুরা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলেও তিনি ধারণা করছেন।
এএফপি রোগে আক্রান্ত জহুরার বাবা ইদ্রিস আলী জানান, আমার মেয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতো। হঠাৎ করেই তার হাত ও পা চিকন হতে শুরু করে। প্রথমে ভেবেছিলাম ভিটামিনের অভাব। কিন্তু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর জানতে পারি তার এএফপি নামে একটি রোগ হয়েছে। এখন আমি কি করবো। কিভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাবো। কথাাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইদ্রিস আলী।
উপজেলা মেডিকেল অফিসার রায়হান বারী জানান, শিশুদের এএফপি রোগ হলে হাত ও পায়ের মাংস দুর্বল হয়ে অবস হয়ে যায়। হাত ও পা চিকন হয়। ভাইরাস, দূষিত পানি, শরীরের কর্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হলে ও অনেক সময় ওপিডি ভ্যাকসিন না নিলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ রোগ নিরাময়ের ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে কিছু এন্টিবায়োটিক,  স্টেরয়েড, থেরাপি ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর ওই বাড়ীতে গিয়ে রোগীর মল সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই রোগে মৃত্যুঝুঁকি নেই। তবে মলের সাহায়্যে শূন্য থেকে ১৫ বছরের নিচে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত শিশুটির থেকে যাতে অন্য কোনো শিশু এই রোগে আক্রান্ত না হয় সে জন্য ঐ এলাকার দুইশ’ শিশুকে পোলিও খাওয়ানো হয়েছে। শিশুটির যদি পোলিও হয় তবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে নন পোলিও হলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তবে শিশুটি পুষ্টিহীনতায় ভুগছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

নৌকায় বসেই ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

‘নতুনরা সব সময় পরিবর্তন নিয়ে আসে’

নিজ দলে বিদ্রোহ, আজ মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

ছোট্ট শিশুদের দুর্নীতির প্রশিক্ষণ

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

রাবিতে হলের সামনে থেকে ছাত্রী অপহৃত

সীমানা বিন্যাস আইন নিয়ে বিপাকে ইসি

সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথম জনসমক্ষে মুগাবে

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে