একনেকে ২৭২৩ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৭ মে ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫৮
 জাতীয় অর্থনৈতিক  পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আটটি  প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।  প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৭২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৯২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হবে ৭৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের চেয়ার পারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে  প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে  পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সভায় ‘তথ্য আপা : ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক পকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
২০২০ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয়ের মধ্যে চীন সরকার ঋণ হিসেবে দেবে এক হাজার ৮১৭ কোটি ২৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৭৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণে ৪৩৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে রাজশাহী জোনের দুটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৪ কিলোমিটার সড়কের মানোন্নয়ন ও প্রশস্ত করা হবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য পকল্পের মধ্যে রয়েছে- ‘কনভার্সন অব ১৫০ মেগাওয়াট : সিলেট গ্যাস টারবাইন  পাওয়ার  প্ল্যান্ট টু ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার  প্ল্যান্ট’ শীর্ষক পকল্প। এর ব্যয় ধরা  হয়েছে ৭৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; দেশের পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকদের কল্যাণ সুবিধা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় হবে ৬৫ কোটি টাকা; নেত্রকোনা  বিসিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন পকল্প, এর ব্যয় হবে ২৬১ কোটি টাকা; নাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণে ১২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারটান) অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, ব্যয় হবে ৩৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা; কৃষক  পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (তৃতীয় পর্যায়) পকল্প, ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
মূল্যস্ফীতি কমেছে: চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি  পয়েন্ট টু  পয়েন্টের ভিত্তিতে হয়েছে ৫.২৮ শতাংশ। যা গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে ছিল ৫.৩২ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৭৮ শতাংশ। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য পকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।  পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, গ্রামীণ  পর্যায়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) সাধারণ মূল্যস্ফীতি  পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে ৫.০৮ ভাগ, যা গত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৪.৯৫ ভাগ। অপরদিকে শহরে (জানুয়ারি-মার্চ) সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৬৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৭.৩৪ ভাগ। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় পান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় তৃতীয় পান্তিকে (জানুয়ারি- মার্চ) দ্রব্য ও সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন