দোয়ারাবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস লাইন

এক্সক্লুসিভ

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্ | ১৭ মে ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৬
ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পরিত্যক্ত টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডের আশপাশের এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস লাইনে ছেয়ে গেছে। দু’দফা অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রায় একযুগ ধরে গ্যাস ফিল্ডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিস্ফোরণের পর থেকে আশপাশের এলাকায় বুদবুদ আকারে গ্যাস উদগীরণ হচ্ছে। এ কারণে গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন আশপাশের এলাকায় আগুন নিয়ে চলাচল এমনকি ধূমপান পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানায়। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না   অনেকেই। ইতিমধ্যে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস থেকে সৃষ্টি অগ্নিকাণ্ডে একজন বৃদ্ধা নিহতসহ বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
নিয়ন্ত্রণ না থাকায় লিকেজ গ্যাসের কারণে টেংরাটিলা ও তার আশপাশের এলাকায় আবারো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। উদগীরণকৃত এসব গ্যাস স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করছেন ঝুঁকিপূর্ণভাবে।
সরজমিনে গিয়ে যত্রতত্র অনিয়ন্ত্রিত লিকেজ গ্যাস ব্যবহারের বিভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ২০০৫ সালে নাইকো কোম্পানির অদক্ষতার কারণে টেংরাটিলা গ্যাস কূপে পরপর দু্থদফা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকার গ্যাস ভস্মীভূত হয়। গ্যাস ফিল্ডের বিস্ফোরণের পর থেকে টেংরাটিলা ও তার আশপাশের এলাকায় হাওর, পুকুর, খালবিল, ক্ষেত খামার, এমনকি বসতবাড়িতে গ্যাস লিকেজ হতে থাকে যা এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে মূল কূপ বন্ধ করা হলেও লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। গ্যাস উদগীরণ বন্ধ না হওয়ায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। আবার এক শ্রেণির মানুষ স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছেন গৃহস্থালী কাজে। লিকেজ গ্যাস উদগীরণের স্থানে গামলা দিয়ে ঢেকে নিম্নমানের পাইপ সংযোগ করে সরাসরি রান্না ঘরের চুলায় সংযোগ দিয়ে রান্না-বান্নার যাবতীয় কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন। এসব লিকেজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সরাসরি চুলায় সংযোগ করায় যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। টেংরাটিলা, টেংরা বাজার ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার এভাবেই গৃহস্থালী কাজে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও কার্যত কেউ মানছে না।
স্থানীয়রা জানান, প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ গ্যাসের ব্যবসা করে আসছে টেংরাটিলা নিবাসী আবুল কাশেম। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনিই মূলত বাড়ি বাড়ি অনিয়ন্ত্রিত লিকেজ গ্যাসের সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। ঘর প্রতি তিনি মাসিক ৫শ’ টাকা করে নেন। প্রথমে লাইন সংযোগ দেয়ার জন্য ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে নেয়া হয়।
অনিয়ন্ত্রিত নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ গ্যাস ব্যবসায় জড়িত আবুল কাশেমের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে  তিনি এর সত্যতা অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বুদবুদ আকারে গ্যাস উদগীরণের ফলে আর্সেনিকসহ নানা রোগে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে নারী ও শিশুসহ প্রায় শতাধিক লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে যত্রতত্র গ্যাসের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তার পরেও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে গ্যাস ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার নির্দেশ

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

‘অনুমোদনহীন বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

কি পেলাম কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...