রাশিয়ার কাছে গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন ট্রাম্প!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ মে ২০১৭, মঙ্গলবার
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েকের কাছে আইসিস সম্পর্কে অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ল্যাভরভ ও কিসলায়েক। এ সময়ই তাদেরকে আইসিস সম্পর্কে সব তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। বলা হয়েছে, এমন অভিযোগ বা রিপোর্ট পুরোপুরি মিথ্যা। এ খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট, লন্ডনের অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য রাশিয়া সরকারের ওই দু’জন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে ওভাল অফিস থেকে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা আরো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে বলা হচ্ছে রিপোর্টে। কারণ, এতে বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের হতাশা দেখা দেবে। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, একটি মিত্র ওইসব গোয়েন্দা তথ্যগুলো সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। তথ্য সরবরাহকারী ওই মিত্র এসব তথ্য রাশিয়ার সঙ্গে শেয়ার করার অনুমতি দেয় নি। হোয়াইট হাউজের ওই বৈঠকের পর ঘটে যাওয়া ক্ষতি পুশিয়ে নেয়ার জন্য হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা ফোন করেন সিআইএ এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ’তে। যুক্তরাষ্ট্রকে ওই তথ্য সরবরাহকারী তৃতীয় মিত্র দেশটি কে তা প্রকাশ করা হয় নি। এ নিয়ে লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়াশিংটনে বৃটিশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিবিসি লিখেছে, ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, একটি সহযোগী দেশের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা রাশিয়ার কাছে প্রকাশ করার অনুমতি ছিল না। গত সপ্তাহে যখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন, তখন এই ঘটনা ঘটে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই প্রতিবেদনটি সত্যি নয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার বলেছেন, যেভাবে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে, তা মিথ্যা। প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড ট্রাম্প) এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী  সের্গেই লাভরভ) উভয় দেশের জন্য যেসব হুমকি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে বিমান চলাচলের বিষয়ও রয়েছে। কোন পর্যায়েই কোন রকম গোয়েন্দা তথ্য বা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় নি। ওদিকে আগেভাগে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র শন স্পাইসার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছিলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী অভিন্ন তৎপরতা ও হুমকির বিষয়টি। এতে সুনির্দিষ্ট হুমকির প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা সূত্র, অপারেশনের পদ্ধতি অথবা সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা করেন নি। ওদিকে হোয়াইট হাউজের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপ উপদেষ্টা দিনা পাওয়েল। তিনি মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের প্রচারণা দল মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদ হারাতে হয়েছে এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি’কে। তিনি ট্রাম্পের রাশিয়া কানেকশনের জন্য গঠিত এফবিআইয়ের তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেন, যা সূত্র প্রকাশ করে দিতে পারে। এর মধ্যে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের একটি পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। এসব তথ্য এমনকি অন্য সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় করাও স্পর্শকাতর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ খবরকে মিথ্যা সংবাদ বলে খারিজ করে দিয়েছেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন