কমির সঙ্গে কথোপকথন কি রেকর্ড করেছিলেন ট্রাম্প?

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ মে ২০১৭, রবিবার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কি গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করেন? বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খোদ তাকেই করা হয়েছিল এমন প্রশ্ন। কিন্তু তিনি হ্যাঁ-না কিছুই বলতে রাজি হননি। তার ভাষ্য, ‘আমি এ নিয়ে কথা বলবো না।’ এই প্রশ্ন উঠারও কারণ আছে। কয়েকদিন আগে এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে হঠাৎ করে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। তার এমন আচমকা সিদ্ধান্ত নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। কিন্তু তিনি শুধু বরখাস্ত করেই ক্ষান্ত হননি। কমিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়ার সুরে তিনি এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য ফাঁসের আগে জেমস কমি বরং এই আশাই করুক যে আমাদের কথোপকথনের কোনো টেপ নেই।’ তার মানে কি কোন টেপ আছে ট্রাম্পের কাছে? এমন প্রশ্ন উঠাটাই বরং স্বাভাবিক। কিন্তু বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আমি শুধু চাইবো কমি সৎ থাকুক। আমার আশা সে থাকবে। ট্রাম্পের টুইট নিয়ে বহু প্রশ্ন করা হয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারকে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিএনএন’র এক খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প যদি সত্যিই কোন রেকর্ডিং সিস্টেম বসিয়ে থাকেন, তাহলে তা হবে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পর এই প্রথম। খবরে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের ওই ‘টেপ’ সংক্রান্ত টুইটের পর তার সঙ্গে নিক্সনের তুলনা আরও বেড়েছে। প্রসঙ্গত, রিচার্ড নিক্সনই মার্কিন ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি অভিশংসনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কুখ্যাত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে জড়িত নিক্সনের নাম। নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের রেকর্ডিং ধারণ করা, নথিপত্র চুরি করা এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা, ইত্যাদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল নিক্সনের বিরুদ্ধে। এছাড়া নিক্সনের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও একাধিক তদন্ত চলছে। নিক্সনের মতো ট্রাম্পও তার বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন। এফবিআই প্রধান কমি ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য আঁতাত নিয়ে চলমান তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। নিক্সন তার অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করেন। ট্রাম্পও ক্ষমতায় বসে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করেন।
এই টুইটের ফলে ট্রাম্প আইনগত জটিলতায়ও পড়তে পারেন। নিক্সনের কেলেঙ্কারির পর কংগ্রেস ১৯৭৪ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল রেকর্ডিংস অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস প্রিভেনশন অ্যাক্ট পাস করে। এই আইনের অধীনে নিক্সন যেসব রেকর্ডিং ধারণ করেছিলেন, তা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট যেসব কথোপকথন রেকর্ড করবেন তা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হবে। আর এ ধরণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বেআইনি। এ কারণেই নিক্সন পরবর্তী প্রেসিডেন্টরা রেকর্ডিং সিস্টেম ব্যবহার করেননি। এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগীরা বলছেন কথোপকথন রেকর্ড করার অভ্যাস তার বহুদিনের।
এদিকে জেমস কমির কাছ থেকে ট্রাম্প ‘বিশ্বস্ততা’ দাবি করেছিলেন বলে খবরে বেরিয়েছে। কিন্তু জবাবে কমি বলেছিলেন, বিশ্বস্ততা নয়, সততা দেখাবেন তিনি। কিন্তু হোয়াইট হাউজ বলছে, ট্রাম্প এমন কোন কিছু কমিকে বলেননি।



 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন