‘ব্যাংক কোম্পানি সংশোধনী আইন সুশাসনের পরিপন্থি’

এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৪ মে ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫
সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় গৃহীত ব্যাংক কোম্পানি সংশোধনী আইন সুশাসনের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম। গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজিত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমপ্রতি ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, সমপ্রতি যে ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে এক পরিবারের চারজন সদস্য পরিচালনা পরিষদে থাকতে পারবেন। আগে ছিল দুজন। আর একজন পরিচালকের টেনিউর ছিল ম্যাক্সিমাম ছয় বছর একনাগাড়ে। সেটাকে এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে নয় বছর। এটা ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের পরিপন্থি বলে আমি মনে করি। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ঝুঁকিতে পড়বে। এ জন্য ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমানত ও ঋণের সুদের হারের পার্থক্য কমানোর তাগিদ দেন আজিজুল ইসলাম। গত বছরসমূহে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হয়নি। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে ব্যাংক তা অনুসন্ধান করেনি। তিনি বলেন, অর্থঋণ আদালতে দায়ের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ভ্যাটের হার নির্ধারণে সাম্যতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা উচিত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভ্যাট হার বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে এটি ১০ শতাংশ হওয়াই যুক্তিযুক্ত বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। আগামী জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। তা না হলে এটি কাগুজে বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বড় বড় প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে এক শ্রেণির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, আমলা ও অসাধু ব্যবসায়ীরা কালো টাকার পাহাড় তৈরি করছেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগে মন্দাসহ নানা কারণে এসব অর্থ তারা বিদেশে পাচার করছেন। কিরণ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী এক কোটিরও বেশি অভিবাসী প্রতিবছর ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে দেশের টাকা পাচার করা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ক্রমশ রক্তশূন্য হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন কিরণ।
প্রতিযোগিতায় আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি দল বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, অধ্যাপক আবু রইস ও তানভীর সিদ্দিকী।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০১৭-০৫-১৩ ১৮:৩৬:২২

সুশাসন বাংলাদেশের কোন পার্টি চায়? সবাই চায় কোন আইন করলে ব্যাংক লুটপাট বৈধ হবে। যেদেশের অর্থমন্ত্রী ৪০ কোটি লুটের পর মন্তব্য করেন এটা একটা বড় এমাউন্ট হল না কি। তারপর ধীরে ধীরে সব ব্যাংক লুটপাট হল, রিজার্ভ ব্যাংক লুট হল(হ্যাকিং)। লুটেরার দল সুযোগ না দিলে হ্যাক হত না সাধারণ শিশু ও তা বুঝে। অথচ অবহেলার অপরাধে কেউ সাজা পায় নি। সসম্মানে রিটায়ার্ড করানো হয়েছে। আপনাদের কথা কে শুনে।

আপনার মতামত দিন