খুলনায় সাড়ে ৪ লাখ স্মার্টকার্ড বাক্সবন্দি

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৪ মে ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৩
 খুলনার সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের স্মার্টকার্ড প্রায় একমাস ধরে খুলনা নির্বাচন অফিসে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ৯ই এপ্রিল স্মার্টকার্ডগুলো ঢাকা থেকে খুলনায় পাঠানো হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দিক নির্দেশনা না আসায় কার্ডগুলো বাক্সবন্দি অবস্থাই পড়ে আছে। কবে নাগাদ খুলনার মানুষ স্মার্টকার্ড হাতে পাবে বলতে পারছেন না নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারাও। খুলনা জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। আর জেলার ৯টি উপজেলায় ভোটার আছে আরও প্রায় সাড়ে ১০ লাখ। খুলনা মহানগরীর বাসিন্দাদের প্রথমে বিতরণের জন্য গত এপ্রিল মাসে স্মার্টকার্ড খুলনায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। মহানগরীতে বিতরণের পর জেলার বাকি উপজেলা ও পৌরসভায় এসব কার্ড বিতরণ করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালের আগে যারা ভোটার হয়েছেন অর্থাৎ ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন তারাই প্রথমে স্মাটকার্ড পাবেন। স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় প্রত্যেক ভোটারের দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের  রেটিনা স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা হবে। এগুলোর জন্য প্রয়োজন বেশকিছু যন্ত্রপাতির। কিন্তু কার্ড পাঠানো হলেও এসব যন্ত্রপাতি খুলনায় পাঠানো হয়নি। নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, বর্তমান ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে। পরে দুটো কার্ডই ফেরত দেওয়া হবে।  ২২ ধরনের সেবা পাওয়ার  ক্ষেত্রে এ স্মার্ট কার্ড কাজে লাগবে। আয়করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর পাওয়া, শেয়ার আবেদন ও বিও হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বীমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, নির্বাচনে  ভোটার শনাক্তকরণ, ব্যাংকঋণ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, টেলিফোন ও মোবাইলের সংযোগ, সরকারি ভর্তুকি, সাহায্য ও সহায়তা, ই-টিকেটিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, আসামি ও অপরাধী শনাক্তকরণ, বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর পাওয়া ও সিকিউরড ওয়েব লগে ইন করার ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগবে। খুলনার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, স্মার্টকার্ড আসলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দিকনির্দেশনা এখনো আসেনি। নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে কার্ড বিতরণের সময়সীমা ঠিক করা হয়। কমিশন থেকে এখনো কোনো সিদ্ধন্ত না জানানোয় কবে কার্ড বিতরণ করা হবে বলা যাচ্ছে না। স্মার্ট কার্ড প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, একটি স্মার্টকার্ডে মোট ৩১ ধরনের তথ্য থাকবে। এর মধ্যে ২৫টি তথ্য বাধ্যতামূলক থাকবে। এই কার্ডের মধ্য দিয়ে ২২ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। খুলনায় বিতরণের বিষয়টি কমিশনের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন