আত্রেয়ীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মমতার

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৪ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৭
তিস্তার পানি না দেওয়ার বিতর্কের মাঝে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। মুখে অবশ্য তিনি বাংলাদেশকে ভালবাসার কথা জানিয়েছেন। তবে তার এবারের ক্ষোভ আত্রেয়ী নদীর পানি পাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুর এলাকায় প্রশাসনিক সভায় আত্রেয়ী নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । ভারত সরকারের সঙ্গে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি যাবার নির্দেশ দিযেছেন। সেইসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক ও বালুরঘাট লোকসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে এ নিয়ে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কয়েক দিন আগেই সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন সাংসদ অর্পিতা। মমতা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের মোহনপুর এলাকায় আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য,  কয়েক বছর আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জের সমজিয়া এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের মোহনপুর এলাকায় আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে সারা বছর আত্রেয়ী মরা কাঠের মতো পড়ে থাকে। সমজিয়া থেকে বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার নদীপথের দু’ধারের সমস্ত চাষযোগ্য জমিতে নদীর সেচের পানির অভাবে চাষাবাদ প্রায় বন্ধ। দু’বছর আগে স্যাটেলাইট মারফত প্রথম নজরে আসে বিষয়টি বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক। এরপরেই আত্রেয়ীকে বাঁচানোর জন্য একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আন্দোলনে নামে। এদিনও বালুরঘাট লোকসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশের এই নদীবাঁধ নিয়ে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তুলে দেন আত্রেয়ী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা। আত্রেয়ী বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত আলোচনায় মমতা হাসিনার অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিস্তার পানি দেওয়া যাবে না। তবে তিনি তোর্সা, রায়ডাক, মানসাইয়ের মতো নদীর পানি দেবার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবশ্য সেই প্রস্তাবকে আমল দেওয়া হয় নি। 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শহিদুল ইসলাম

২০১৭-০৫-০৪ ১৩:২০:২৭

মমতা হিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি কি ভাবছেন বাংলাদেশের মানুষ কি বোকা।? যা ভাবছেন তা না আমরা কারো সাথে বৈরিতা চাই না, যদি কেউ অন্যায় ভাবে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করে আমরা তাকে ছাড়ব না।।

mahbub rahman

২০১৭-০৫-০৪ ০০:৪০:৪৫

একদম ঠিক কাজ করছে....এখন মমতাদী আপনার কষ্ট কেমন লাগে বুঝতে পারেন। আমাদেরও তিস্তার পানির জন্য কষ্ট লাগে..ঔষধ আমাদের কাছেও আছে। আমাদের সরকার এ বাাপারে আশু ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ....এবং দরকার হলে আইনি ব্যাবস্থাও নেয়া দরকার....তারা বড় দেশ বলে যা খুশি তাই করতে পারে এটা কিন্তু ঠিক না...আমাদের সরকারকেও একটু টাইট হতে হবে...সব ব্যাপারে। ওরা যেমন নিজের সারথটা বুঝে তেমনি আমাদেরও নিজের সারথটা বুঝে নিতে হবে। এটা কোন বিতরক নয়...এটা ন্যায়্য অধিকার এটাতে নো ছাড়....

আপনার মতামত দিন