চট্টগ্রামের সেই আলোচিত ওসি খুলনা কারাগারে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১ মে ২০১৭, সোমবার
চট্টগ্রামের পটিয়া থানা থেকে প্রত্যাহারকৃত (ক্লোজ) ওসি রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব এ নির্দেশ দেন। পরে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তার স্ত্রী নাছরিন আক্তার রুমার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায়  রোববার এ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। স্ত্রী রুমা নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত ১৮ই জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামী রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রোববার এ মামলার পূর্বনির্ধারিত শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালতের আদেশের পরপরই মামলার বাদী রুমা এজলাসের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আদালত আমার আকুতি শুনেছেন। এখন এ ধরনের একজন অপরাধীর সঠিক বিচার হওয়া দরকার। এর বিচার দেখে যেন অন্য কোন মানুষ এমন অপরাধ না করে। অপরাধ করলে কোটি টাকা দিয়েও পার পাওয়া যাবে না। শুধু কারাগারে গেলেই হবে না আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। এদিকে ক্লোজড হওয়া ওসি রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে নানা অজানা কাহিনী।  রোববার আদালতে জামিন শুনানিতে বাদী পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ, জেলা জজ আদালতের পিপি কাজী আবু শাহীন, নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অলোকা নন্দা দাস, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক, সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট তছলিমা আক্তার ছন্দা, সেলিনা আক্তার পিয়া, অ্যাডভোকেট জাকিরুল ইসলাম, হিমাংশু চক্রবর্তী। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রজব আলী সরদার ও অ্যাডভোকেট ফরহাদ আব্বাস। পিপি অলোকা নন্দা দাস মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ১৯৯৯ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় খুলনার খালিশপুর হাউজিং নতুন কলোনির মৃত আবদুল খালেকের মেয়ে নাছরিন আক্তার রুমার। বিগত দুই বছর পূর্বে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় রেফায়েত ইয়াবাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে এবং হ্যাপী চৌধুরী নামের এক নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। বিষয়গুলো জানার পর প্রতিবাদ করায় স্ত্রী রুমাকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন পুলিশ কর্মকর্তা রেফায়েত। শনিবার স্ত্রী রুমা স্বামী রেফায়েতের বিরুদ্ধে নির্যাতনের নানা বিবরণ তুলে ধরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন পুলিশ পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী। একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন একাধিক পরকীয়া প্রেম। এসবের প্রতিবাদ করায় চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন স্ত্রী নাছরিন আক্তার রুমা। কেড়ে নেয়া হয়েছে দুই কন্যা রাইসা বিনতে চৌধুরী (১৫) ও নানজীবা চৌধুরী (৯)।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Liaquat Ali Khan

২০১৭-০৫-১২ ২৩:৫৮:৩১

সিলেট কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি আতাউর রহমানের মত কদিন পরই তো পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তির পাওয়ার ব্যবস্থা করে পোস্টিং দিয়ে দিতে পারেন…

Mohammed

২০১৭-০৫-০১ ০১:১৬:৪২

Good

আজাহার

২০১৭-০৪-৩০ ১৫:১৪:১৭

ঘুষের পরিণাম ঐশ্রীর পরিবার ----------

আপনার মতামত দিন