ভোটে নজর আওয়ামী লীগের দিশার খোঁজে বিএনপি

প্রথম পাতা

বিশেষ প্রতিনিধি | ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫২
 রাজনীতিতে অনেক বদল হয়েছে। শক্তি ক্ষয় হয়েছে বিএনপি’র। সংসদেও দলটির এখন নেই প্রতিনিধিত্ব। কাগজে-কলমে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। আবার সরকারেরও শেয়ার হোল্ডার। তবে কে না জানে বিএনপি নির্বাচনে এলে আগামী নির্বাচনেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে। নৌকা বনাম ধানের শীষ।
সে নির্বাচন কখন হবে তা এখনই হলফ করে বলা যায় না। বৃটেনে আকস্মিক নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। বাংলাদেশেও কি এমন কিছু হবে? বলা মুশকিল। তবে নির্বাচন যখনই হোক না কেন ভোটে পুরোদস্তুর মনসংযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহার তৈরি নিয়ে চলছে কাজ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কাজ চলছে নীরবে। অন্যদিকে, বিএনপি শিবির এখনো অনেকটা দিশাহীন। সংগঠন গোছানোর কিছু কাজ চললেও আশাবাদী হতে পারছেন না বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়নি। বিপুলসংখ্যক এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যেসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে তাও ছিল নামকাওয়াস্তে। তাই চলতি সংসদের এমপিরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় প্রতিটি এলাকাতেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতেই সবচেয়ে বেশি হিমশিম খেতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। জাতীয় নির্বাচনে অবশ্য বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার তেমন কোন সুযোগ নেই। তবে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় এলাকায় যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তা এখনই হলফ করে বলা যায়। এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে বিএনপি বা জামায়াতের কাছ থেকে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। বরং দলের মধ্যে নানা শক্তিগুলো রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২০১৪ সালে ৩৪, ২০১৫ সালে ৩৩ এবং ২০১৬-তে ৮৩ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। অবশ্য এসব অন্তঃদ্বন্দ্বের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবারই অনুপ্রবেশকারীদের দায়ী করা হয়েছে।
কৌশল প্রণয়ন আর মাঠে ভোট চাওয়া দু’টোই এরই মধ্যে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ইসলামপন্থি কিছু দল এবং সংগঠনকে কাছে টানার কৌশলও নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বামপন্থিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামও সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়েছে। ইসলামপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু দলের সঙ্গে বিএনপি জোটের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এরই মধ্যে জোট ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনকেন্দ্রিক কোন্দল যেন তৈরি হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কেন্দ্র থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় জনসভা করে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ছুটছেন জেলায় জেলায়। আর নির্বাচনী কৌশল যারা ঠিক করেন তারাও কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম।
আওয়ামী লীগ যখন পুরোমাত্রায় ভোটে মনোনিবেশ করেছে বিএনপি তখন এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। দিশা খুঁজছে দলটি। নির্বাচন ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত বিএনপি। ঘরোয়াভাবে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে দলটি। বিএনপি’র সংগঠন গোছানোর কার্যক্রমও চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে সম্প্রতি ওই কাজে কিছুটা গতি এসেছে। গত মঙ্গলবার রাতে দুই ভাগ করে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটিতে তরুণ নেতাদের প্রাধান্য দেখা গেছে। দুই দশক ধরে ঢাকায় বিএনপি’র রাজনীতির কাণ্ডারী ছিলেন মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাদেক হোসেন খোকার ব্যর্থতার পটভূমিতে ঢাকায় নেতৃত্ব দেয়া হয় মির্জা আব্বাসকে। তবে তার নেতৃত্বাধীন কমিটি আরো ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে ফের নতুন কমিটি গঠন করা হলো। তবে এ কমিটিও কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মহানগর উত্তরের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বিএনপি নেতৃত্ব আশা করছে নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ঢাকা মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী নির্বাচন ঘিরে এখনো বিএনপিতে নানামুখী চিন্তা রয়েছে। একটি অংশ যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। অন্য একটি অংশ মনে করে, নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে ন্যূনতম সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো লাভ হবে না। তবে পরিস্থিতি যাই হোক সংগঠন গোছাতে এখন সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বিএনপি। সুবিধাজনক সময়ে ফের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চিন্তাও রয়েছে বিএনপিতে কারো কারো।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরন

ধুমপানে বাধা দেয়ায় দোকানিকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

পারমাণবিক যুদ্ধের হিম আতঙ্ক

লেবার নেতা হিসেবে সাদিক খানকে দেখতে চান বৃটিশ ভোটাররা

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বোস্টনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

মনিপুর থেকে ১০৭ ‘বাংলাদেশী’ পুশব্যাক

পূর্ব লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

সাদুল্যাপুরে ১১২ মেট্রিক টন চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার বিমসটেকেও ছায়া পড়েছে

রাজধানীতে আগুনে পুড়ে নিহত ১

চতুর্থ দফা ক্ষমতার দিকে দৃষ্টি মার্কেলের

‘অযথা এসব গুঞ্জনের কোন মানে হয় না’

সন্তানের নাড়ি কাটার সময়ও পাননি হামিদা

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুরু, ফিরছে শৃঙ্খলা

কাল থেকে গণশুনানি